আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. নাছির উদ্দিন চৌধুরী। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত চূড়ান্ত মনোনয়নের চিঠি আজ জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী নাছির চৌধুরীকে ‘ধানের শীষ’ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি।
এর আগে ২০ ডিসেম্বর নাছির চৌধুরীকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হলেও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে রাখা হয়েছিল। দুই প্রার্থীই পৃথকভাবে এলাকায় প্রচারণা চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে নাছির চৌধুরীর অসুস্থতার কারণে অনেকেই ধারণা করেছিলেন দল হয়তো তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে পাবেল চৌধুরীর ওপর ভরসা রাখবে। তবে শেষ পর্যন্ত ভাটির জনপদের জনপ্রিয় ও প্রবীণ এই রাজনীতিবিদের অভিজ্ঞতাতেই আস্থা রাখল বিএনপি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নাছির উদ্দিন চৌধুরী এই আসনের একজন বর্ষীয়ান নেতা। তিনি ১৯৮৫ ও ১৯৮৯ সালে দুইবার দিরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের জুন মাসের নির্বাচনে তিনি জাতীয় পার্টির হয়ে নির্বাচন করে কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করে চমক সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
নাছির চৌধুরীর চূড়ান্ত মনোনয়নের খবর পৌঁছালে দিরাই ও শাল্লার সাধারণ ভোটার এবং বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা দেয়। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর প্রিয় নেতার চূড়ান্ত বিজয় নিশ্চিত করতে তারা এখন ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে নাছির চৌধুরী ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট শিশির মনিরসহ অন্যান্য শক্তিশালী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে সুনামগঞ্জ-২ আসনে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।