• বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
লাল টেলিফোনে শেখ হাসিনার কল রেকর্ড শুনলেন প্রধানমন্ত্রী ডেঙ্গু রোগী বেশি হবিগঞ্জে কম মৌলভীবাজারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ, আহত ১০ হাম উপসর্গে সিলেটে আরও ২ শিশুর মৃত্যু ফেঞ্চুগঞ্জে অটোরিকশা- মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গেল যুবকের বড় বড় গর্ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা আজ গণ-অভ্যূত্থান দিবস: বাংলাদেশের নবজাগরণের অবিস্মরণীয় দিন জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি: প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ১১ দলীয় ঐক্যের গণসমাবেশে নেতাকর্মীরা ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের গণজমায়েত ঠোঁটের রঙে ৫ হাজার বছরের ইতিহাস দেশের রাজনীতিকে বিভক্ত করেছে এনসিপি-জামায়াত জোট: এ্যানি ১৮ ঘণ্টা পর উড়াল দিল সিলেটে আটকে পড়া ফ্লাইট শহীদের আত্মত্যাগে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা’ সিলেটে জুলাইয়ের শহীদদের কবর জিয়ারত করল সিলেট জেলা জামায়াত ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষে হেলমেট পরা নয়নের ছবি ভাইরাল ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল আলিয়া মাদ্রাসায় ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত অধ্যক্ষ হাসপাতালে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে: শিবির সভাপতি

আজ গণ-অভ্যূত্থান দিবস: বাংলাদেশের নবজাগরণের অবিস্মরণীয় দিন

Reporter Name / ৫ Time View
Update : বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬

8

আজ ‘৩৬ জুলাই’। বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নে বিভোর ছাত্র-জনতার জন্য এক নতুন জাগরণের অবিস্মরনীয় এক দিন। ২০২৪ থেকে এদেশের মুক্তিকামী মানুষের কাছে যা পরম এক আরাধনার ধন। ২০২৪ সালের এই দিনে ছাত্র-জনতার সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও তীব্র প্রতিরোধের মুখে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এর মাধ্যমে তাঁর প্রায় ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং এক নতুন বাংলাদেশের কাব্যগাথা রচিত হয়। যে কাব্যগাথা বাক স্বাধীনতার, মুক্তভাবে কথা বলার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার, রাজনৈতিক বৈচিত্রের এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের। ক্যালেন্ডারের হিসাবে দিনটি আগস্ট মাসের ৫ তারিখ হলেও, জুলাই মাসের আন্দোলন ও দাবির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একে প্রতীকীভাবে জুলাই মাসের ৩৬তম দিন বা ‘৩৬ জুলাই’ বলা হয়। অর্থাৎ ‘৩৬ জুলাই’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তারিখের একটি প্রতীকী ও রূপক নাম, যেদিন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন ঘটেছিল। আজ তার দুইবছর পূর্ন হলো।

২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশত্যাগ এবং অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের ঘোষণা আসে। এই দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।
সেদিন শুধু হাসিনা পালাননি, পালিয়ে যান তাঁর সরকারের মন্ত্রী, এমপি, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা এবং দলের উপরের সারির নেতৃবৃন্দসহ প্রায় সকলেই। এ দেশের ছাত্র-জনতার ত্যাগ, তিতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়েই এই অভাবনীয় বিজয় অর্জিত হয়েছিল। প্রায় দেড়হাজার শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজারো প্রাণের রক্তস্রোত এবং জনগণের স্বতঃস্ফূর্ততায় সেদিন যেন মাথার উপর থেকে সরে গিয়েছিল ১৬ বছরের এক জগদ্দল পাথর। যা জীবনপণ সংগ্রাম ইতিহাসে চিরস্মরণীয় এক হিরন্ময় অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তথ্য: এ বিজয় অর্জনে হাজারো শহীদ, ২৩ হাজারেরও বেশি আহত, সাত শতাধিক মানুষ দৃষ্টিহারা, হাজারো মানুষের পঙ্গুত্ববরণ, হাজারো সাধারণ মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, শিক্ষার্থীর কারাবরণ, নির্যাতন-নিপীড়নের অবর্ণনীয় ত্যাগ রয়েছে এ অর্জনে। রয়েছে প্রিয়জন, স্বজন এবং সন্তান হারানোর করুণ আর্তনাদ।

৫ আগস্ট হাসিনার সরকারের পতনের পরও পুলিশের বর্বর হামলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারান। শেখ হাসিনার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শত শত মানুষ নিহত এবং অসংখ্য মানুষ আহত হন। এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ৬টি মামলায় রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আলোচিত ৬টি রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ১১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এসব মামলার অপর আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাবহুল ৫ আগস্ট: ৫ আগস্টের সেই বিজয়ের আগে টানা ৩৬ দিন অধিকারহারা মানুষের আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিলো দেশ। এই সময়ে হাসিনার অনুগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের হামলায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেন রক্তগঙ্গা বয়ে যায় দেশে। তাই ৫ আগস্ট বাংলাদেশের জনগণের জন্য একদিকে যেমন বিজয়ের দিন, তেমনি এটি একটি মর্মান্তিক দিন হিসেবেও পরিগণিত।

সেদিন ৫ আগস্ট কড়াকড়ি কারফিউ উপেক্ষা করে ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি সফল করতে হাজার হাজার মানুষ রাজধানী ঢাকার অভিমুখে পদযাত্রা করেন। দেশজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে আসেন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান শেখ হাসিনার পদত্যাগের খবর নিশ্চিত করার পর জনতার উল্লাসে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে হাসিনার ক্ষমতার আধিপত্য এবং আওয়ামী লীগের কথিত রাজনৈতিক দুর্গ এক মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে।

রাজধানীর রাজপথ দখলে নেয় লাখ লাখ মানুষ। তাদের মধ্যে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করে বিজয় উদযাপন করে। শুধু গণভবন নয়, শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার পর অসংখ্য মানুষ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও জাতীয় সংসদেও প্রবেশ করে। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু, বৃদ্ধ, শ্রমজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী— সবাই রাজপথে নেমে দীর্ঘদিনের একনায়কতান্ত্রিক শাসনের পতন উদযাপন করে।

হাসিনা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করেন। ৫ আগস্ট রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষ হয়। দুপুরের দিকে হাজার হাজার মানুষ শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন। হাসিনা হঠাৎ দেশত্যাগ করার পরও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানীসহ সারাদেশে ছাত-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে অনেক মানুষ নিহত ও আহত হন।
২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর থেকেই শেখ হাসিনা ‘নিরঙ্কুশ ক্ষমতা’ ধরে রাখতে চেয়েছেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি মানবাধিকার লঙ্ঘন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণসহ শাসনব্যবস্থায় নানা অনিয়ম ও দমনপীড়নের বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি সমালোচনাকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেন। টানা তিন তিনটি নির্বাচন একতরফা করে নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেন। বিনা প্রতিদ্বন্ধিতার নির্বাচন, রাতের ভোটে নির্বাচন ও ডামী ভোটের নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাসনেই পাঠিয়ে দেন। নিজের মন মতো চালিয়ে বিচার বিভাগ, নির্বাহী বিভাগ ও সংসদসহ সাংবিধানিক সব প্রতিষ্ঠানকে ভেঙ্গে ফেলেন।

এমনিভাবে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতিও নির্মমতা দেখান হাসিনা। তার দমনমূলক আচরণই শেষ পর্যন্ত কোটা সংস্কার আন্দোলন এক গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
দেশের মানুষ কল্পনাও করতে পারেনি, ১ জুলাই শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার সম্মিলিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’-এ রূপ নেবে। শিক্ষার্থীরা শুরুতে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার যৌক্তিক সংস্কারের দাবিকে কেন্দ্র করেই রাজপথে নামেন। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থী ও চাকরি প্রত্যাশীদের আন্দোলনের মুখে সরকার এক প্রজ্ঞাপনে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল করে দেয়। ২০২৪ সালের জুনে হাইকোর্ট সেই প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ ঘোষণা করে কোটা পুনর্বহালের রায় দেন।
হাইকোর্টের রায়ে ফের ৫৬ শতাংশ কোটা প্রথা পুনর্বহাল হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বঞ্চনার প্রতীক হিসেবে এই কোটা পুনর্বহালকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করে এবং তীব্র আন্দোলনে গড়ে তোলে।
সরকার শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলন দমন করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সমর্থক ক্যাডারদের মাঠে নামিয়ে দেয়, যার ফলে এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।

জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, এই আন্দোলনে সাঈদ, মুগ্ধ, তুরাবসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ২০ হাজার মানুষ আহত হন। যার ফলে দেশ রক্তাক্ত এক প্রান্তরে পরিণত হয়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫ আগস্ট সকাল থেকেই ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতা শাহবাগে আসতে শুরু করেন। তারা যখন কারফিউ ও পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে রাজধানীতে প্রবেশের চেষ্টা করে, তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে হতাহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা মূলত ৬ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ ও ৪ আগস্ট আওয়ামী লীগের ‘রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের’ নামে চালানো হামলায় যথাক্রমে অন্তত ৯৩ ও ৬৬ জন নিহত হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচির সময় এগিয়ে এনে ৫ আগস্ট নির্ধারণ করেন।
আন্দোলন যখন সহিংস হয়ে ওঠে সমন্বয়করা সারাদেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায় স্বীকার করে হাসিনাকে প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়াসহ বেশ কয়েকটি দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সরকার তা না করে আন্দোলন দমনে কৌশল অবলম্বন করে। তারা আন্দোলনের ছয়জন সমন্বয়ক- নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, নুসরাত তাবাসসুম এবং আবু বাকের মজুমদারকে তুলে নিয়ে ডিবি কার্যালয়ে আটকে রাখে। বাইরে থাকা কয়েকজন সমন্বয়ক তখন ৯ দফা ঘোষণা করে আন্দোলন চালিয়ে যান।
পরে ছয় সমন্বয়ক মুক্তি পাওয়ার পর ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক জনসভায় হাসিনার পদত্যাগের দাবি তুলে এক দফা ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।
হাসিনার পদত্যাগের এক দফা দাবি ঘোষণার পর আন্দোলনকারীদের ওপর দমনপীড়ন আরও বেড়ে যায়। এরপর আন্দোলনকারীরা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ দিনটিকে তারা ‘৩৬ জুলাই’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাদের মতে, শেখ হাসিনার পতন না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস শেষ হবে না।

অবশেষে আসে সেই ঐতিহাসিক দিন ৫ আগস্ট। ভোর থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ও শহরতলি থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজধানীর শাহবাগ অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। ঢাকার বাইরে থেকেও হাজার হাজার মানুষ পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে রাজধানীতে আসার চেষ্টা করেন।
পরিস্থিতি তখন ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ ও অস্থির। হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাজার হাজার মানুষ জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। কোনো কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। তারা যেকোনো নিরাপত্তাব্যবস্থাকে পদদলিত করে হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা উপলব্ধি করেন- এটাই তার বাংলাদেশের মাটিতে শেষ মুহূর্ত। তাকে বিদায় নিতে হবে।
এরপর শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং তার ছোট বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে একটি সামরিক হেলিকপ্টারে করে গোপনে ভারতের উদ্দেশ্যে দেশত্যাগ করেন। এর মধ্য দিয়ে তার দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd