• সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
‘ছাত্রশিবির ছেড়ে যুবশিবির করায় জামায়াত আমার ওপর হামলা চালায়’ বিড়ালের আঁচড়ের পর ‘মিউ মিউ’ করছে শিশু, যা বললেন চিকিৎসক শাল্লায় সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে সংবর্ধনা প্রদান আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ: ডা. শফিকুর রহমান সুনামগঞ্জে হাউজবোট থেকে পড়ে নিখোঁজ শিশুর লাশ উদ্ধার সিলেটে চিরুনি অভিযান, ৫ ঘণ্টায় পুলিশের জালে ৬০ মৃ ত্যু ফাঁ দ সিলেটের ওসমানীনগর, ১৫ দিনে নি হ ত-১৪ সিলেটে বিজিবির সাঁড়াশি অভিযান ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য ও মাদক জব্দ সিলেটে রাজা জিসি স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই : রাশেদ খাঁন রেলস্টেশন এলাকায় যৌথ অভিযান, তিন কোটি টাকার চোরাই পণ্য আটক দক্ষিণ সুরমায় ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি আটক কুলাউড়ায় ভূকশিমইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাজনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নগরীসহ সিলেটের চার উপজেলাকে সিউকের আওতায় আনার প্রস্তাব সিগারেট এনে না দেওয়ায় ৩ জনকে কুপিয়ে আহত, দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ একই পরিবারের চারজনকে খুন, বাসায় মিলেছে ইয়াবা সেবনের আলামত সিলেটে শাহজালাল জামেয়া নাজিরেরগাঁওয়ে ‘মা সমাবেশ’ বড়লেখায় দুই শতাধিক এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ স্টার্ক-শরিফুলে এলোমেলো পরিসংখ্যানের পাতা

একই পরিবারের চারজনকে খুন, বাসায় মিলেছে ইয়াবা সেবনের আলামত

Reporter Name / ১৯ Time View
Update : রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬

22

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহের তীর এবার ‘পাড়ার ছেলেদের’ দিকে। হত্যাকাণ্ডের পর বাড়ির ভেতরে বসে ইয়াবা সেবনের আলামত পাওয়া গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় দুই যুবককে আটকের তথ্যও মিলেছে। সূত্রের ভাষ্য, ডাকাতির উদ্দেশ্যে বাড়িতে ঢুকে স্থানীয় যুবকদের একটি দল চারজনকে হত্যা করে থাকতে পারে।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোর ৫টা পর্যন্ত মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই যুবককে আটকের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে আটকের বিষয়টি স্বীকার করেনি।

সূত্র জানায়, চারজনের হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা এলাকায় অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামে দুই যুবককে আটক করা হয়।

আটকদের একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে পালিয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগানে লুকিয়ে পড়েন বলে দাবি সূত্রটির। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

সূত্রটির দাবি, স্থানীয় কয়েক যুবক পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ওই বাড়িতে ঢোকে। এরপরই তারা পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর ভবনটিতে বসে ইয়াবা সেবন করা হয়েছে বলেও আলামত পাওয়া গেছে।

সন্দেহভাজনদের আটকের বিষয়টি পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করলেও দুপুর ১২টার দিকে মহানগর পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে।

এর আগে শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।

শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। দোতলা বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ, সিঁড়িতে তার স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ এবং শোবার ঘরে খাটের নিচ থেকে ছেলে প্রিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ভোর ৪টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছেন। ছেলে প্রিয়ম ছিল রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি আসবাবপত্র, টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙচুর করা অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির বিষয়টি সামনে এলেও হত্যার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত চলছে।

ঘটনাস্থল থেকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটনে কাজ করছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেকগুলো সংস্থা কাজ করছে। কেউ আটক হয়ে থাকলেও সেটি হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে, তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে বাড়িঘর যেভাবে তছনছ করা হয়েছে, তাতে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলে আমরা মনে করছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে তদন্ত করছি। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd