লাশ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম। নিখোঁজ অপ্রতীমকে মেরে ফেলা হয়েছে। হে আল্লাহ বাবা–মাকে ধৈর্য ধরার তৌফিক দান করুন।
মায়ের আইফোন হাতে নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলবে জানিয়ে গত শুক্রবার তিনটায় বাসা থেকে বের হয় ১৩ বছরের কিশোর ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। তার পর থেকে আর খোঁজ মিলছিল না। এই ঘটনায় শিক্ষিকা নাহিদা বেগম শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আইফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত হওয়ার তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনে অবস্থিত সানন্দা এলাকায় একটি টিলায় গিয়ে মেলে অপ্রতিমের নিথর দেহ ।
অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান। নিষ্পাপ এই কিশোরের এমন অকাল মৃত্যৃর খবরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।