পবিত্র কোরআন শরিফ নিয়ে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর অবস্থান জাতির সামনে স্পষ্ট করার এবং বক্তব্যটি যথার্থ হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করে তাওবা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়াত বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দীন রাব্বানী।
বিবৃতিতে মাওলানা রাব্বানী বলেন, সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইনমন্ত্রীর একটি বক্তব্যে তিনি বলেছেন—‘আমি কোরআনের আলোকে সংবিধান রচনা করতে পারি, কিন্তু কোরআনকে সংবিধান হিসেবে মানা উচিত হবে না।’ তার দাবি, আইনমন্ত্রীর এ বক্তব্য মুসলমানের ঈমান-আকীদার মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
মাওলানা রাব্বানী বলেন, ‘কুরআন মাজীদ কোনো মানুষের রচিত সংবিধান নয় যে, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের বিবেচনায় সেটিকে গ্রহণ বা বর্জন করা হবে। কুরআন মহান আল্লাহ তাআলার কালাম। মুসলমানের কাছে কুরআনের প্রতি ঈমান কোনো রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের বিষয় নয়; এটি ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’
তিনি আরও বলেন, মানুষের তৈরি সংবিধান পরিবর্তনশীল ও সংশোধনযোগ্য। কিন্তু আল্লাহর নাজিলকৃত কুরআনের বিধান মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা কিংবা রাজনৈতিক সুবিধা-অসুবিধার মাপকাঠিতে নির্ধারিত হতে পারে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কুরআনের বিধানকে অস্বীকার বা অগ্রাহ্য করার কোনো বক্তব্য মুসলমানের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, কুরআনের মর্যাদা ও বিধান নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা, অবজ্ঞা কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এ বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রত্যাশিত।
মাওলানা রাব্বানী বলেন, প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে আইনমন্ত্রীর অবস্থান অবিলম্বে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। বক্তব্যটি যথার্থ হয়ে থাকলে তা প্রত্যাহার করে তাওবা করতে হবে। একই সঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান তিনি।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস বা বিভ্রান্তি মেনে নেওয়া হবে না।