সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতার ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে তাদের গ্রেপ্তারে সহযোগিতা চেয়েছে সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ।
বুধবার সুনামগঞ্জ সদর থানার ফেসবুক থেকে ওই তিনজনের ছবি প্রকাশ করা হয়। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়- ‘পরিবারের বখে যাওয়া এই তিন জন অপরাধীকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া অত্যন্ত জরুরী, তাদের সম্পর্কে whatsapp ০১৩২০১২০৭৯০ এই নাম্বারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করুন..’।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই তিনজনই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য। তাদের বিরুদ্ধে শহরের প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের সামনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্য এমদাদুল হক শাহজাহানের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।
তবে অভিযুক্ত কিশোরদের ছবি ফেসবুকে প্রকাশ ও বিচারের আগেই পুলিশের পক্ষ থেকে ‘অপরাধী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ সিলেটটুডেকে বলেন, তারা একটা মানুষকে মেরে ফেলতেছে, পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালাবে না? ছবি প্রকাশ না করলে মানুষ এদের চিনবে কীভাবে?
তবে ছবি প্রকাশ করা তিনজন কিশোর নয় জানিয়ে ওসি বলেন, তাদের বয়স ২০/২২ বছর।
যদিও তাদের বিরুদ্ধে পূর্বের কোন মামলা নেই বলে জানিয়েছেন ওসি।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেনের সাথে বিকেলে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল কেটে দেন।
এ ব্যাপারে সচেতন নাগরিক কমিটি সিলেটের সভাপতি এডভোকেট শিরিন আক্তার সিলেটটুডেকে বলেন, আদালতে প্রমাণিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত পুলিশ কাউকে অপরাধী বলতে পারে না। দুর্ধর্ষ আসামি না হলে ছবি প্রকাশ করাও উচিত নয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে প্রিয়াঙ্গন মার্কেটের সামনে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এমদাদুল হক শাহজাহানের ছেলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে শাহজাহান নিজেও হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সুনামগঞ্জ থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় পূর্ব সুলতানপুরের সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব আলী (৫৫), তাঁর ছেলে শ্রাবণ (২১), হাছননগরের মুহিবুর রহমানের ছেলে সায়মন (২০) এবং সদর হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জন জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের অবস্থান বা পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে পুলিশের দেওয়া ০১৩২০১২০৭৯০ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে