সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় খাসজমি ও আধিপত্যের বিরোধে এক যুবক নিহতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে ব্যাপক তাণ্ডব, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের আলীনগর গ্রাম এখন কার্যত পুরুষশূন্য। হামলার ভয়ে অর্ধশতাধিক পরিবারের নারী-শিশু ও বৃদ্ধরা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলীনগর গ্রামের খাসজমি ও জলমহালের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভাটিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী এবং রফিকুল ইসলামের পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে গত ১২ মে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শাহাদ্বীব আলীর পক্ষের রতন মিয়া (২৭) গুরুতর আহত হন এবং ১৩ মে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
রতন মিয়ার মৃত্যুর পর তার বাবা সোনা মিয়া বাদী হয়ে ১৬৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর গ্রেফতার আতঙ্কে রফিকুল ইসলামের পক্ষের পুরুষরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে গেলে পুরো গ্রামের নিয়ন্ত্রণ চলে যায় শাহাদ্বীব আলীর সমর্থকদের হাতে। অভিযোগ উঠেছে, এরপর থেকেই শুরু হয় ধারাবাহিক হামলা ও লুণ্ঠন।
সরেজমিনে আলীনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় চিত্র। অর্ধশতাধিক বসতঘর ভাঙচুর করে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হয়েছে। সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য রেনুকা বেগমের পাকা ঘরের ছাদ ফুটো করে এবং দেয়াল ভেঙে সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়েছে। তার দেবর জামাল মিয়ার ঘরটি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গ্রামের নারী সুবেনা, রাজনা ও আমিনা বেগমসহ একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, তাদের ঘরের ধান, চাল, গরু-ছাগল, আসবাবপত্র, এমনকি ফ্রিজ ও মাড়াই মেশিন পর্যন্ত লুট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, ঘর রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহাদ্বীব মেম্বার অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাদের বাড়িঘরই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমনকি টিউবওয়েল ও টয়লেটও রক্ষা পায়নি হামলা থেকে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য শাহাদ্বীব আলী বলেন, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উত্তেজনার বশে কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর হতে পারে, তবে লুটপাটের অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশের উপস্থিতিতেই অনেকে তাদের মালপত্র সরিয়ে নিয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাড়িঘর ভাঙচুরের সত্যতা পেয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় আসামিরা পলাতক ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বর্তমানে আলীনগর গ্রামে চরম থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভিটেমাটি হারানো পরিবারগুলো নিরাপত্তা ও নিজেদের ভিটেয় ফেরার জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।