থেমেও যেন থামছে না হামের প্রকোপ। মৃত্যুর হার কমলেও এখনও গড়ে হাজারের ওপর আক্রান্ত হচ্ছে। তিন মাসেই এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে লাখ আর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ছয়শর বেশি শিশুর। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন কোনো ধরন নয়, পুরোনো বি-৩ ধরনেই দেশে হাম এই ভয়াবহতা ছড়িয়েছে। এবার শিশুদের হামের সঙ্গে সবেচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে নিউমোনিয়া। মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও সর্বোচ্চ। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে যেমন নবজাতক, তেমনই বয়স্করাও সংক্রমিত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও বেশিরভাগ দীর্ঘমেয়াদি নিউমোনিয়ায় ভুগছে। হামের এমন বিরূপ আচরণে বারবারই প্রশ্ন উঠেছিল হামের ধরন নিয়ে। বিশেষজ্ঞরাও তাগিদ দিয়েছেন ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য। এর মধ্যে ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও, হাম, রুবেলা ল্যাবরেটরি...
22
থেমেও যেন থামছে না হামের প্রকোপ। মৃত্যুর হার কমলেও এখনও গড়ে হাজারের ওপর আক্রান্ত হচ্ছে। তিন মাসেই এ সংখ্যা ছাড়িয়েছে লাখ আর মৃত্যু হয়েছে সাড়ে ছয়শর বেশি শিশুর। বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন কোনো ধরন নয়, পুরোনো বি-৩ ধরনেই দেশে হাম এই ভয়াবহতা ছড়িয়েছে।
এবার শিশুদের হামের সঙ্গে সবেচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে নিউমোনিয়া। মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও সর্বোচ্চ। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে যেমন নবজাতক, তেমনই বয়স্করাও সংক্রমিত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদেরও বেশিরভাগ দীর্ঘমেয়াদি নিউমোনিয়ায় ভুগছে।
হামের এমন বিরূপ আচরণে বারবারই প্রশ্ন উঠেছিল হামের ধরন নিয়ে। বিশেষজ্ঞরাও তাগিদ দিয়েছেন ভাইরাসটির জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য। এর মধ্যে ধরন সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারের জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের জাতীয় পোলিও, হাম, রুবেলা ল্যাবরেটরি জিন বিশ্লেষণ করেছে। পরীক্ষার ফলাফলে পাওয়া যায় হামের বি-৩ ধরন। যদিও এটি নতুন কোনো ধরন নয়, এর আগেও দেশে পাওয়া গেছে বি-৩ ও ডি-৮ ধরন।
জাতীয় পোলিও, হাম, রুবেলা ল্যাবরেটরি প্রধান ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ডা. খন্দকার মাহবুবা জামিল বলছেন, এর আগেও দেশে এ ধরনটি পাওয়া গেছে। তবে আরও উন্নত গবেষণার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠানো হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যেই সে রিপোর্ট পাওয়া যাবে।
হামের ধরন যা-ই হোক চিকিৎসকরা বলছেন, প্রতিরোধের একমাত্র মাধ্যম টিকা। তাই অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ তাদের।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচ শিশু মারা গেছে। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৮ শিশু।
এ নিয়ে তিন মাসে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৬৬ জনে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫৭৩ শিশু এবং নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৯৩ শিশু। একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৮৯ হাজার ৯০৪ জনের দেহে।
এছাড়া নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ জনের দেহে। এ সময় হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৭৭ জন।