দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষা শেষে বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। আর সেই ফেরাটা স্মরণীয় করে রাখলেন দলের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হলান্ড। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করলেন ম্যানচেস্টার সিটির তারকা ফরোয়ার্ড। তাঁর ঝড়ো শুরুতে গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল নরওয়ে।
বিশ্বকাপে আর্লিং হলান্ডের জন্য অপেক্ষা ছিল অনেক দিনের। নরওয়ের জন্যও। ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে সেই অপেক্ষার রাতটাই নিজেদের করে নিল স্ক্যান্ডিনেভিয়ানরা। আর বড় মঞ্চে নিজের প্রথম ম্যাচেই জানিয়ে দিলেন হলান্ড, বিশ্বকাপেও তাঁর গোলের ক্ষুধা বদলায়নি। ইরাককে ৪-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘আই’-এ জয়ে শুরু করেছে নরওয়ে।
ম্যাসাচুসেটসের ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে শুরুটা অবশ্য নরওয়ের জন্য সহজ ছিল না। গ্রাহাম আর্নল্ডের ইরাক ভয় পায়নি। উঁচুতে প্রেস করেছে, শরীরী লড়াইয়ে পিছিয়ে যায়নি, বল পেলে দ্রুত আক্রমণে উঠেছে। আয়মান হুসেইন ও আলী আল হামাদির উপস্থিতি নরওয়ের রক্ষণকে শুরু থেকেই সতর্ক রাখে।
কিন্তু বড় দলের বড় ফরোয়ার্ডরা কখনো কখনো পুরো ম্যাচের ছন্দের বাইরে থেকেও মুহূর্তে পার্থক্য গড়ে দেন। হলান্ড সেটিই করলেন। বাঁ দিক থেকে আক্রমণ গড়ে ওঠার পর ডেভিড মোলার উলফের নিচু পাসে দূরের পোস্টে পৌঁছে সহজ ফিনিশিংয়ে নরওয়েকে এগিয়ে দেন ম্যানচেস্টার সিটির স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপে নিজের প্রথম ম্যাচেই গোল পেয়ে যান তিনি।
ইরাক অবশ্য ভেঙে পড়েনি। কিছুক্ষণ পরই দুর্দান্ত হেডে সমতা ফেরান অধিনায়ক আয়মান হুসেইন। নরওয়ের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের মাঝেও তাঁর লাফ, অবস্থান নেওয়া ও ফিনিশিং ছিল নিখুঁত। সেই গোল যেন ম্যাচকে নতুন প্রাণ দেয়।
তবে সমতার আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। বিরতির আগেই আবার হলান্ড। প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ নিয়ে দ্বিতীয় গোল করেন নরওয়ের সবচেয়ে বড় তারকা। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার ফিরে যায় স্তালে সোলবাক্কেনের দলের হাতে।
দ্বিতীয়ার্ধে ইরাক চেষ্টা করলেও আগের তীব্রতা ধরে রাখতে পারেনি। সময় যত গড়িয়েছে, নরওয়ে তত বেশি স্থির হয়েছে। আন্তোনিও নুসা ডান-বাঁ দিক বদলে আক্রমণে গতি এনেছেন, মার্টিন অডেগার্ড মাঝমাঠে ছন্দ ধরে রেখেছেন, আর সেট পিসে নিজেদের উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়েছে নরওয়ে।
শেষ দিকে বদলি হিসেবে নেমে লিও অস্টিগার্ড হেডে তৃতীয় গোল করেন। এরপর যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে ইরাকের আত্মঘাতী গোলে স্কোরলাইন ৪-১ হয়। ফল দেখে ম্যাচটা একপেশে মনে হতে পারে, কিন্তু ইরাক অন্তত প্রথমার্ধে দেখিয়েছে তারা শুধু অংশ নিতে আসেনি। সাহসী ফুটবল খেলেছে, নরওয়েকে অস্বস্তিতে ফেলেছে, গোলও করেছে। তবে সুযোগ কাজে লাগানো এবং ভুল কমানোর জায়গায় পিছিয়ে পড়েছে তারা।
নরওয়ের জন্য রাতটা বিশেষ। ১৯৯৮ সালের পর আবার বিশ্বকাপে ফিরে প্রথম ম্যাচেই বড় জয়। আরও বড় কথা, হলান্ড শুরুতেই গোলের খাতা খুলেছেন। বিশ্বকাপের আলো তাঁর দিকে ছিলই, এখন সেই আলো আরও উজ্জ্বল। নরওয়ে শুধু হলান্ডের দল নয়, কিন্তু হলান্ড থাকলে তাদের প্রতিটি আক্রমণ আলাদা ভয় তৈরি করে।