সরকারের অভ্যন্তরে থাকা একটি চক্র আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং অবিলম্বে বিরোধী দলের পরামর্শ মেনে জাতীয় সংকটের টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত ছাড়া সারা দেশে একযোগে আওয়ামী লীগের ঝটিকা বিক্ষোভ, বাসে আগুন ও সহিংসতা চালানো সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রশাসনের সব পর্যায়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের তালিকা থাকা সত্ত্বেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। বরং সরকারের মধ্যে লুকিয়ে থাকা একটি চক্র আওয়ামী লীগকে পেছনের দরজা দিয়ে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’
তিনি আরো অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে নিরীহ নেতাকর্মীদের বাড়ি থেকে তুলে এনে আওয়ামী লীগের ব্যানারে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে জামায়াতের ওপর মিথ্যা ট্যাগ লাগাত, বর্তমান প্রশাসনের একাংশও বিরোধী মতকে দমনে একই ধরনের পুরোনো ফ্যাসিবাদী পন্থা অনুসরণ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র সাত মাসের মাথায় তিন দফা তেলের দাম বাড়িয়েছে। রাষ্ট্র কোনো মুনাফালোভী লিমিটেড কোম্পানি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন দোকান নয়; এটি একটি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। তাই ভর্তুকির অজুহাতে জনগণের পকেট কেটে দুর্নীতিবাজ ও ঘনিষ্ঠদের সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নেই।
গণশুনানি ও জাতীয় সংসদে আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তের ফলে পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও কৃষিখাতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে। অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার না করা হলে ঢাকামুখী লংমার্চসহ রাজপথে কঠোর গণআন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।