প্রকৃতির সৌন্দর্য ও জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় গাছপালার গুরুত্ব অপরিসীম। আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে সবুজ-শ্যামল করে সৃষ্টি করেছেন এবং মানুষকে তা আবাদ করার দায়িত্ব দিয়েছেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তিনি জমিন থেকে তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাতে তোমাদের বসবাসের ব্যবস্থা করেছেন।’ (সুরা হুদ: ৬১)

ইসলামে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গাছ লাগানোকে একটি সওয়াবের কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান যদি ফলবান গাছ লাগায়, এরপর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো প্রাণী কিছু খায়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৫৫২)

অর্থাৎ একজন ব্যক্তি যে গাছ লাগান, তার মৃত্যুর পরও সেই গাছ থেকে মানুষ বা প্রাণী উপকৃত হলে তিনি এর সওয়াব পেতে থাকবেন।

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলমান কোনো গাছ রোপণ করে বা ফসল উৎপাদন করে, আর তা থেকে মানুষ, পাখি বা কোনো চতুষ্পদ প্রাণী খায়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২১৯৫)

ইসলাম জমিকে অনাবাদি ফেলে রাখাকে উৎসাহিত করে না। জমি আবাদ করা, গাছ লাগানো এবং মানুষের উপকারে আসে এমন কাজ করাকে গুরুত্বপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

মহানবী (সা.) কেয়ামতের আগ মুহূর্তেও গাছ লাগানোর উৎসাহ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যদি তুমি নিশ্চিতভাবে জানতে পার যে কেয়ামত এসে গেছে, আর তোমার হাতে একটি গাছের চারা থাকে, তারপরও সম্ভব হলে তা লাগিয়ে দাও।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ১২৯৮১)

এই শিক্ষার মাধ্যমে বোঝা যায়, ভালো কাজের সুযোগ থাকলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তা করে যেতে হবে।

গাছ লাগানোর জন্য বিশেষজ্ঞ হওয়া জরুরি নয়। বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে বা সুযোগমতো জায়গায় গাছ লাগানো, গাছের যত্ন নেওয়া কিংবা গাছের ক্ষতি থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। মহানবী (সা.) নিজেও গাছ লাগানো ও এর যত্ন নেওয়ার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন।