সুনামগঞ্জের ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের গড়গাঁও গ্রামে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাস্তার ওপর গেট ও দেয়াল নির্মাণ কাজ অব্যাহত রয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে চলছে উত্তেজনা। ফলে যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে, আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ চলমান থাকায় এবং থানা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে তিব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ।
জানা যায়, উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের মাহমদপুর মৌজার জেএল নং ২৬৩, খতিয়ান নং ১১১, দাগ নং ৭২৫ এর সাড়ে ৩১ শতক ভূমির মালিক মৃত মদরিছ আলীর তিন ছেলে শফিক মিয়া, রফিক মিয়া ও মাসুক মিয়া। ওয়ারিশানসূত্রে প্রাপ্ত এ জমি দখলের লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন একই গ্রামের আশিকুর রহমানের ছেলে আরিফুর রহমান ও হাসানুর রহমান পুষ্পের নেতৃত্বাধীন একটি প্রভাবশালী চক্র। সম্প্রতি জমির একাংশে ভুক্তভোগী আটটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তায় গেট ও দেয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ভুক্তভোগী শফিক মিয়া বাদী হয়ে গেল ১৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি বিবিধ মোকদ্দমা দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে ওই জমিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদানের আদেশ দেন। ১৭ সেপ্টেম্বর ছাতক থানার এসআই মহিউদ্দিন উভয় পক্ষকে আদালতের নোটিশ পৌঁছে দেন। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও প্রতিপক্ষ আদালতের আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনদিন ধরে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যা সরাসরি আদালত অবমাননার সামিল। প্রতিপক্ষের দাবি, তারা ৭২১ ও ৭২২ দাগে কাজ করছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোন বৈধ প্রমাণপত্র তারা দেখাতে পারেননি। আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং অভিযুক্ত একপক্ষের সঙ্গে থানা পুলিশের ঘনিষ্ঠতা জনমনে হতাশা সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমি সংক্রান্ত এই বিরোধের জেরে তাদের বিরুদ্ধে উল্টো চাঁদাবাজি ও ফৌজদারি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি বারবার থানা পুলিশকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমনকি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে গিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন। তবে পুলিশ বলছে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে।
থানার এসআই মহিউদ্দিন জানান, উভয় পক্ষকে নোটিশ দেওয়ার পর খবর পেয়েছেন নির্মাণকাজ চলছে। বিষয়টি তিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করার প্রমাণ পেলে তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।