রাজধানীর তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে দিনভর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে বায়তুল মোকাররম এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির।
বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তার সঙ্গে ছিলেন সংগঠনটির শত শত নেতাকর্মী।
এ সময় তাদের ছাত্রদলের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসীদের চমড়া, তুলে নেব আমরা’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে একটি সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের সঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের ধাক্কাধাক্কি এবং পরে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মারামারির ঘটনা ঘটে।
এ সময় জকসু ও ছাত্রশক্তির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়ে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। অন্যদিকে কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হওয়ার দাবি করেছে ছাত্রদল।
এ ছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন।
ছাত্রশিবিরের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান। এতে শিবিরের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাখা অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেককে মাথায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে শিবিরের বহিরাগত নেতা-কর্মীরা সকালে ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে উসকানিমূলক আচরণ করে বলে দাবি করেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদল। ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধর করার জেরেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বলে জানায় সংগঠনটি।
দিনের শেষ ভাগে রাজধানীর বকশিবাজারে অবস্থিত ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।