• মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
আগস্ট থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক ইন্দোনেশিয়ায় ৬ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প ইরানের সঙ্গে চুক্তিটি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে, বিস্তারিত দ্রুত প্রকাশ করা হবে: ট্রাম্প বরখাস্তের ঝুঁকিতে বিয়ানীবাজারের আলীনগর ইউপি চেয়ারম্যান বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে কানাইঘাটে যুবক গ্রেপ্তার সিলেটে ২শ টাকায় ৪শ টাকা, ‍মূহুর্তে দ্বিগুণ লাভ পবিত্র আশুরা কবে জানা যাবে মঙ্গলবার প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি করবে স্থানীয় প্রশাসন দুইবার পিছিয়েও নেদারল্যান্ডসকে রুখে দিলো জাপান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান, বন্ধ হচ্ছে যুদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ: জামায়াত আমীর মরক্কোর ফুটবলারের সঙ্গে প্রেম করছেন নোরা ফাতেহি? রামিসা হত্যার দায় স্বীকার করে জেল আপিলে যা বলেছেন আসামি সোহেল খালেদা জিয়াকে ‘কালো মানিক’ উপহার দেওয়া সোহাগ মৃধা গ্রেপ্তার অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করতে টাইগাররা দিলো ২৭৫ রানের লক্ষ্য সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গ্রেফতার গোল সমতায় বিরতিতে ব্রাজিল-মরক্কো হাইভোল্টেজ ম্যাচ শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কাজ করছে সরকার -এমপি লুনা কক্সবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

ধলাই সেতু রক্ষা করতে প্রশাসনের ব্যর্থতায় মামলার হুঁশিয়ারি পরিবেশবাদীদের

Reporter Name / ৩৬৭ Time View
Update : শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫

143

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত সুরমা অঞ্চলের দীর্ঘতম ধলাই সেতু রক্ষায় অবিলম্বে বালু ও পাথর উত্তোলন বন্ধ করা না হলে স্থানীয় প্রশাসনকে আসামি করে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো।

তাদের অভিযোগ, গত এক বছর ধরে সেতুটির আশপাশ থেকে নির্বিচারে বালু ও পাথর আহরণের মাধ্যমে নজিরবিহীন অন্যায়-অনাচার চললেও প্রশাসন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

শনিবার (২৬ জুলাই) বিকেলে ধলাই সেতুর নিচে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ ও মানববন্ধনে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। আন্তর্জাতিক ওয়াটারকিপার অ্যালায়েন্সের অঙ্গসংগঠন ‘সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার’ এবং পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’ (ধরা) যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

এতে কোম্পানীগঞ্জের নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে সেতু রক্ষার দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

সমাবেশে ‘সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার’ ও ‘ধরা’র সংগঠক আব্দুল করিমচৌধুরী কিম বলেন, “পাথর ও বালুমহালে বিগত এক বছর ধরে আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে নজিরবিহীন অন্যায়-অনাচার চলছে। বালু-পাথর লুট করতে করতে পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, নিজের পায়ে কুড়াল মেরে ধলাই সেতু ধসের আয়োজন করা হচ্ছে।”

তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “অবিলম্বে বালুখেকোদের হাত থেকে ধলাই সেতু রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া না হলে এবং বালুসন্ত্রাসে সেতুটি ধ্বংস হলে, এর দায় স্থানীয় প্রশাসনকে নিতে হবে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করতে ব্যর্থতার জন্য প্রশাসনকে আসামি করে মামলা করা হবে।”কর্মসূচি থেকে জানানো হয়, ২০০৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান সেতুটি উদ্বোধন করেন। ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৪৩৪.৩৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদরের সঙ্গে ভারত সীমান্তঘেঁষা তিনটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এছাড়া সিলেটের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র উৎমাছড়ায় যাতায়াতের জন্যও এই সেতু অপরিহার্য।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসের পর থেকে প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগে ধলাই নদীতে নির্বিচারে বালু ও পাথর লুটপাট শুরু হয়।বালুখেকোরা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা এখন সরাসরি সেতুর নিচ থেকে বালু উত্তোলন করছে। বিগত কয়েক মাস ধরে গণমাধ্যমে এ নিয়ে অসংখ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও এবং স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। এর ফলে যেকোনো মুহূর্তে সেতুটি ধসে পড়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হকের সভাপতিত্বে এবং স্থানীয় স্কুলশিক্ষক নিজাম উদ্দিন মাস্টারের সঞ্চালনায় এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ‘ধরা’ সিলেটের সংগঠক ফয়জুর রহমান, আইনজীবী অরুপ শ্যাম বাপ্পী এবং নাট্যকর্মী আহমেদ হোসেন চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, ধলাই সেতুর নিচে বালু লুটতরাজ বন্ধে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, পানি উন্নয়ন বোর্ড আইন এবং ফৌজদারি দণ্ডবিধিসহ একাধিক আইন প্রয়োগের সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এসব আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে, জনগণ আইনের আশ্রয় নিয়ে প্রশাসনের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd