• বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালো বড়লেখা প্রেসক্লাব মহান বিজয় দিবসে শহীদদের প্রতি নিসচা বড়লেখা শাখার শ্রদ্ধা নিবেদন বড়লেখায় যুব বিভাগের উদ্যোগে বিজয় দিবস উদযাপন সব শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা জৈন্তাপুরে ছাত্র জমিয়তের উদ্যোগে বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বিজয় র‍্যালি গাছবাড়ীতে জামায়াতে ইসলামির বিশাল বর্ণাঢ্য র‌্যালী ও পথ সভা অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে কোম্পানীগঞ্জ অনলাইন প্রেসক্লাবের পুষ্পস্তবক অর্পণ দেশে ফিরে তারেক রহমান গণতন্ত্রের লড়াইকে আরও শক্তিশালী করবেন: মির্জা ফখরুল বুধবার নগরীর যেসব এলাকায় থাকবে না বিদ্যুৎ বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত গৌরবের বিজয় দিবস আজ জুতা পায়ে জানাজার নামাজ পড়া যাবে, কী বলে ইসলাম? বিজয়ের মাস উপলক্ষে ফ্রেন্ডস ব্লাড ডোনেশন সিলেটের বৃক্ষরোপণ বিভক্তি নয়, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জাতি ঐক্যবদ্ধ থাকবে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে বিকেলে আদালতে তোলা হবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কী, এতে যেসব সুবিধা থাকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি তারেক রহমানের শ্রদ্ধা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এভারকেয়ার ছাড়লেন ওসমান হাদি সিলেট ২ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চান জয়নুল ফুলকুঁড়ি আসরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সিলেটে শিশুকিশোর সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

বরকতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা

Reporter Name / ২৭৪ Time View
Update : শুক্রবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৫

বরকতের মালিক একমাত্র আল্লাহ তা’আলা। তিনি ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, বিশেষ কোন স্থান, কাল, পাত্র কাউকে বরকত দিতে পারে না। এ ধরণের চিন্তা-চেতনা বা বিশ্বাস পোষণ করা শিরকের অন্তর্ভুক্ত। বরকতের জন্য বৃথা কোন পীর, বযুর্গ, অলি, আউলিয়া এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবরেও যাবেন না। হাঁ যাবেন, সালাম ও কা’বার দিকে ফিরে দু’আ করার জন্য। যা কিছু প্রয়োজন, আল্লাহকেই বলুন। তিনিই একমাত্র দাতা। তিনিই আপনার প্রয়োজন মেটাতে পারেন। আর আল্লাহর কাছে চাওয়ার জন্য কোন মাধ্যম লাগে না। তিনি বান্দার ডাক সরাসরি শুনেন ও সেই অনুযায়ী ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন।

বরকত বা তাবারাক, বারাকাতুন শব্দ থেকে আধিক্য অর্থে গৃহিত। এর পূর্ণ অর্থ এক শব্দে প্রকাশ করা কঠিণ। এর শব্দ মূলে বা-রা-কা অক্ষরত্রয়। এ থেকে বরকত ও বুরুক দুটো ধাতু নিষ্পণœ হয়। বরকত অর্থ বৃদ্ধি, সমৃদ্ধি, বিপুলতা, প্রাচুর্য্যরে ধারণা আর বুরুক এর মধ্যে স্থায়িত্ব, দৃঢ়তা, অটলতা ও অনিবার্যতার ধারণা রয়েছে। যখন বাবে তাফাউলে রূপান্তর করা হয় তখন এর অর্থ দাঁড়ায় চরম প্রাচুর্য, বর্ধমান প্রাচুর্য, চূড়ান্ত পর্যায়ের স্থায়ীত্ব।

আমরা দুরুদে ইবরাহিমীতে বলে থাকি ‘আল্লাহুমা বারিক আলা মুহাম্মাদিন হে আল্লাহ! মুহাম¥দ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তুমি বরকত দান করো।’ আর মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম ও তাঁর আহালকে আল্লাহ এমন সমৃদ্ধি ও স্থায়ী বরকত দান করলেন যে, পৃথিবীর প্রতিটি মুসলিম তাঁর প্রতিদিন প্রতি মহুর্তে তাঁদের সালাম ও দুরুদে দো’আ করে যাচ্ছে, যার ধারাবাহিকতা চলছে এবং চলবে। ‘এই যে চলছে চলবে’ এর নামই তাবারক। এই বরকত কে দিয়েছেন? এই বরকত দিয়েছেন আল্লাহ তা’আলা।

আমরা আমাদের প্রাত্যহিক সালাতে তাকবির বলার পর প্রথমেই ছানা পড়ি। এই ছানার এক জায়গায় বলে থাকি ‘ওয়া তাবারাকা ইসমুকা’ বড়ই বরকতময় তোমার নাম। এখানে আল্লাহইএকমাত্র বরকতের মালিক এই স্বীকৃতি দেয়ার পর পরই বরকত তালাশ করার জন্য আমরা ছুটে যাই বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও স্থানের কাছে। যা সুস্পষ্টভাবে শিরক। অথচ আল্লাহর প্রতিটি নামই বরকতময়। বরকতের মালিক আল্লাহ তা’আলা। তাই বরকত তাঁর কাছেই চাইতে হবে। ‘বড়ই বরকতময় আল্লাহ তা’আলা’ আল কুরআনের অনেক জায়গায় তা উদ্ধৃত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের অসংখ্য দো’আয় বরকতের কথা রয়েছে। তিনি বরকতের জন্য আল্লাহর কাছে দো’আ করেছেন এই মর্মে বহু হাদীস বর্ণিত রয়েছে।

বরকতের অর্থ ভিভিন্ন আয়াতে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে প্রকাশিত হয়েছে।
‘বড়ই বরকত সম্পন্ন তিনি যিনি চাইলে তাঁর নির্ধারিত জিনিস থেকে অনেক বেশী ও উৎকৃষ্টতর জিনিস তোমাকে দিতে পারেন, অনেকগুলো বাগান, যেগুলোর পাদদেশে নদী প্রবাহিত এবং বড় বড় প্রসাদ।’ (সুরা ফুরকান: ১০)। এখানে তাবারাকা এর মানে হচ্ছে ‘বিপুল সম্পদ ও উপকরণাদির অধিকারী’ সীমাহীন শক্তিধর’ এবং ‘কারো কোন কল্যাণ করতে চাইলে করতে পারেন না, তিনি এই দূর্বলতার অনেক উর্ধ্বে। অর্থাৎ তিনিই একমাত্র বরকতের মালিক।

‘আল্লাহ বড়ই বরকতের অধিকারী তিনি সমগ্র বিশ্ব জাহানের মালিক ও প্রতিপালক।’ (সুরা আরাফ : ৫৪ এর শেষাংশ) এখানে আল্লাহ বড়ই বরকতের অধিকারী হবার অর্থ দাঁড়ায় যে, তাঁর হাসানাহ ও কল্যাণের কোন সীমা নেই। তাঁর সত্তা থেকে সীমাহীন কল্যাণ চতুর্দিকে বিস্তৃত হচ্ছে।
মূর্খতাবশত: মানুষ বরকত তালাশের জন্য বিভিন্ন পীর ও মাযারে দৌঁড়ায়। বরকতের জন্য সিলেট হযরত শাহজালাল রহ: ও আজমীরের হযরত মইনূদ্দীন রহ: এর কবরে যায়। এভাবে নিয়ত করে বা ঘটা করে এ সমস্ত মাজারে যাবেন না। কোন কাজে সিলেটে বা ভারতে গেছেন। যান এই দুই মনিষীর কবরে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি সুন্নাহ অনুযায়ী তাদেরকে হাদীসে পরিভাষায় সালাম করুন এবং কা’বার দিকে ফিরে তাঁদের জন্য এবং নিজেদের জন্য দু’আ করুন। কিন্তু ঘূর্ণাক্ষরে তাঁদের কাছে কোন কিছু চাইবেন না বা তাঁদেরকে উসিলাও বানাবেন না। হজ্জ ও ওমরায় এজেন্সীর মালিকগণ তাদের প্যাকেজে বিভিন্ন জায়গায় যিয়ারার প্যাকেজ রাখেন।

যেমন: মক্কায়: জাবালে রহমত আরাফা ময়দান, জাবালে সওর, জাবালে নূর, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের বাড়ী বা জন্মস্থান ও মাকবারাতুল মুয়াল্লা, তায়েফে ও মা হালিমার বাড়ী ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। মদীনায়: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবর, তাঁর দুই প্রিয় সাথীর কবর, ওহুদ প্রান্তর ও সাইয়েদুশ শুহাদা আমির হামযা রা. এর কবর, মসজিদে কুবা, মসজিদে কেবলাতাইন, মসজিদে জুম’আ, সাবায়া মসজিদ, মসজিদে আবুবকর রা. ও মসজিদে আলী রা., মাকবারাতুল বাকি ও ওয়াদিয়ে জ্বীন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এগুলোতে যাওয়া দোষের নয়, ইতিহাসকে মন্থর ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংগ্রামী জীবনকে স্মরণ করে নিজেকে উজ্জীবিত করার জন্য যাবেন। কবরসমুহেও যাবেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবরগুলোতে গিয়ে কবরবাসীদের সালাম দিতেন। কিন্তু এগুলোতে গিয়ে বিশেষ কোন কিছু তালাশ করা জায়েজ নয়। বিশেষ করে এগুলোকে বরকতময় মনে করাও ঠিক নয়। জাবালে রহমতে আরাফার দিন যাবেন। আরাফাতে আরাফার দিন দো’আ কবুল হয়। মদিনায় মসজিদে কুবায় দু’রাকাত নামাযের কথা হাদীসে আছে।

লক্ষণীয় ব্যাপার হলো, মক্কা ও মদীনার উল্লেখিত স্থানসমুহের প্রত্যেকটিতে কয়েকটি ভাষায় সতর্কবাণী সম্বলিত সাইনবোর্ড সেটে দেয়া আছে। আমি এবার ওমরায় গিয়ে দুটো বিলবোর্ডের ছবি তুলে নিয়ে এসেছি। যেমন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের বাড়ী বা জন্মস্থান নামে খ্যাত দোতলা বাড়ীটির দেয়ালে সেটে দেয়া বিলবোর্ডে উর্দ্দু, বাংলা, তুর্কি ও ফারসী ভাষায় লিখা আছে, ‘হে মুসলিম ভাই! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঠিক জন্মস্থানের ওপর কোন বিশুদ্ধ দলিল নেই। অতএব, এ স্থান থেকে বরকত গ্রহণ করা কিংবা এটাকে সালাত ও দু’আর জন্য নির্দিষ্ট করা শরয়ীভাবে জায়েজ নয়।’ তাছাড়া রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লামের বাড়ী বা জন্মস্থান সুনির্দিষ্ট হলেও তো এখান থেকে বরকত লাভ করা যাবে না।

এমনিভাবে জাবালে রহমতের পাদদেশে বিলবোর্ডটিতে এই কয়টি ভাষায় লিখা আছে, ‘হে মুসলিম ভাই! আপনার প্রিয় নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাতের দিন ছাড়া এখানে আসেননি। তিনি পাহাড়ে উঠেননি। তিনি পাহাড়ের কোন অংশ বা কোন গাছ স্পর্শ করা বা তাতে গিরা লাগানোর আদেশ দেননি। এবং তিনি আরো আদেশ দেননি পাহাড়ের ওপরে সালাত আদায় করা, না আদেশ করেন পাথরের ওপর কোন কিছু লিখা। অতএব, হে হাজী সাহেবান! আপনি আপনার প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ অনুসরণ করুন। এবং তিনি বলেছেন তোমরা আমার থেকে হজ্জ গ্রহণ করো।’
এভাবে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানসমূহে এই চতুরদেশীয় হাজীগণ যেই ধরণের বেদা’আতি আচরণ করেন, সেই বিদা’আত সম্পর্কে সতর্কবাণী সম্বলিত বিলবোর্ড সেটে দেয়া আছে। বা’কি কবরস্থানে ঢোকার পথে সাইনবোর্ডে বিভিন্ন সহীহ হাদীস উল্লেখ করে বেদা’আত থেকে সাবধান করা হয়েছে। কবরস্থানে ঢুকে আপনি কি করবেন আর কি করবেন না তা লিখা আছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু’আ করতেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে যা দিয়েছো তাতে বরকত দাও।’ তিনি আরো দু’আ করেছেন,‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদেরকে ও আমাদের দৃষ্টি শক্তিতে, আমাদের অন্তরে, আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরমধ্যে বরকত দান করো।’
এমনকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছেও বরকত চাওয়া যাবে না। তাঁর কবরের পাশে গিয়ে অনেকে বেদা’আত করতে চায়, কিন্তু সৌদি পুলিশ তাতে বাধা দেয়। আরে ভাই! আমরাই তো প্রতি সালাতে তাশাহুদের পরে দুরুদে ইবরাহিমীতে তাঁর জন্য বরকতের দু’আ করছি। আমরা বলে থাকি ‘আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদি……..অর্থাৎ হে আল্লাহ মুহাম্মদকে বরকত দান করো……। তাহলে তিনি আপনাকে বরকত দিবেন কিভাবে? তিনিই তো আল্লাহর কাছে বরকতের প্রত্যাশী ছিলেনএবং আমাদেরকে আল্লাহর কাছে বরকত চাওয়ার পদ্ধতি শিক্ষা দিয়ে গেছেন। সুতরাং কোন বুযুর্গ, পীর, আউলিয়া এমনকি কোন নবী রাসুলও আপনাকে এক চুল পরিমাণ বরকত দেয়ার ক্ষমতা রাখেন না। ঈমানকে সাফ করুন মুসলমান!নিজের কর্মের পরিশুদ্ধতার জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করুন। বরকতময় আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে ও আপনার কর্মকে পরিশুদ্ধকরে দিবেন। আল্লাহ আমাদের সকলের বিশ^াস ও কর্মকে পরিশুদ্ধ করে দিন। আমীন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd