• বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ভোট কেনাবেচার অভিযোগের প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি যাদের পরাজয় নিশ্চিত, তারাই ভোট বানচালের চেষ্টা করছে ঝিনাইদহে দাঁড়িপাল্লার এজেন্ট স্বাক্ষরিত ২৩ রেজাল্ট শিট জব্দ বরগুনায় ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেলে আগুন সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোট কেনার অভিযোগে ধাওয়া খেলেন জামায়াত নেতা, আরেকজন আটক কুমিল্লায় জামায়াত নেতার মৎস্য প্রজেক্ট থেকে ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার সূত্রাপুরে ভোট কেনার সময় জামায়াতের নায়েবে আমির আটক বিএনপির প্রার্থী এ্যানি চৌধুরীর গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা উদ্ধার, সহকারী আটক সিলেটে ২৯৪ কেন্দ্রে কড়া নজরদারি, নেই আশঙ্কা: এসএমপি টাকাসহ জামায়াত নেতা আটক ‘গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ’: দেলাওয়ার হবিগঞ্জে পোস্টাল ভোট দিয়েছেন ৮ হাজার ৫৫১ জন নির্বাচনের আগে পুলিশের ২ ডিআইজিসহ ৪ কর্মকর্তাকে বদলি সিলেটের কোন কেন্দ্রে আপনার ভোট? কমলগঞ্জে চা বাগান থেকে হাত-পা বাঁধা যুবকের লাশ উদ্ধার যারা নির্বাচন ব্যাহত করতে চায়, তাদের জন্য ঝুঁকি আছে: র‍্যাব মহাপরিচালক তারেক রহমানকে সমর্থন জানিয়ে ৪ স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেশে পৌঁছেছে ৪ লাখ ৯১ হাজার ৬১৫ পোস্টাল ব্যালট আটক জামায়াত নেতার ব্যাগে ছিল ৭৪ লাখ টাকা: পুলিশ ১৩ নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ জামায়াত আমিরের

ব্যারিস্টার আরমানকে বন্দি রাখার বিষয়টি জানতাম : আইজিপির জবানবন্দি

Reporter Name / ১৫৯ Time View
Update : বুধবার, ৩০ জুলাই, ২০২৫

21

জুলাই আন্দোলন নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তৎকালীন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এক মামলায় চলতি বছরের ২৪ মার্চ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে জবানবন্দি দেন তিনি। ৫ পৃষ্ঠার জবানবন্দিতে ২০১৮ এর ভোটে অনিয়ম, গুম, খুন ও জুলাই আন্দোলন নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন সাবেক এই পুলিশ প্রধান।

৫ পৃষ্টার জবানবন্দির অনুলিপি মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।

জবানবন্দির এক জায়গায় চৌধুরী মামুন বলেন, কাউকে উঠিয়ে আনা, গুম করে রাখার মতো বিষয়গুলো সাবেক সামরিক উপদেষ্টা জেনারেল তারিক সিদ্দিকি সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেন। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সবকিছু অবহিত করা হতো না। ব্যারিস্টার আরমান টিএফআই সেলে বন্দি আছেন, বিষয়টি জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা।

জবানবন্দিতে চৌধুরী মামুন বলেন, সিরিয়াস নির্দেশনাগুলো সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসতো বলে শুনেছি। আমার সময় আমি এই ধরনের আদেশ পাই নাই। কিছু কিছু নির্দেশনা নিরাপত্তা ও সাবেক সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকির পক্ষ থেকে আসতো বলে জানতে পারি। র‍্যাব যদিও পুলিশের আইজির অধীনে ছিল কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চেইন অব কমান্ড মানা হতো না এবং র‍্যাবের প্রধানরা আইজিপিকে উপেক্ষা করেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর নির্দেশে কাজ করতেন।

তিনি বলেন, আমি যতদিন র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলাম চেষ্টা করেছি সিরিয়াস বিষয়গুলো আইজিকে অবহিত রাখতে। টিএফআই সেলে কতজন বন্দি আসতো বা কারাবন্দি আছে এসব বিষয়ে সবকিছু আমাকে জানানো হতো না। এ বিষয়গুলো র‍্যাবের ডিরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) দেখভাল করতেন। ব্যারিস্টার আরমান টিএফআই সেলে বন্দি আছে, এ বিষয়টি আমি জানতাম। তবে তাকে আমার সময় তুলে আনা হয়নি। অনেক আগে তুলে আনা হয়। আমার পূর্ববর্তী ডিজি র‍্যাব বেনজির আহমেদ দায়িত্ব হস্তান্তরকালে ব্যারিস্টার আরমান যে টিএফআইতে আটক আছেন তা আমাকে অবহিত করেন।

পরবর্তীতে এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশন) ও ডিরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) সরোয়ার বিন কাশেমও আরমানের আটকের বিষয়টি আমাকে অবহিত করেন। তাকে তুলে আনা এবং বন্দি করে রাখার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। তাকে টিএফআই সেলে আটক ও গুম করে রাখার বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। এ বিষয়টি জানার পরে আমি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকির সঙ্গে কথা বলি। তারিক সিদ্দিকি আমাকে বলেন ঠিক আছে রাখেন, বিষয়টি আপনাকে পরে বলবো। পরে তিনি আমাকে কিছুই জানায়নি। এরপরও আমি বিষয়টি কয়েকবার তারিক সিদ্দিকির কাছে উত্থাপন করি কিন্তু তিনি এ বিষয়ে আর কোনো নির্দেশনা দেননি। আমি ডিরেক্টর জেনারেল (র‌্যাব) হিসেবে দায়িত্বভার হস্তান্তরের সময় পরবর্তী ডিরেক্টর জেনারেল (র‌্যাব) খুরশিদ হোসেনকে আরমানের বিষয়টি অবহিত করি।

চৌধুরী মামুন বলেন, আমার র‍্যাবের দায়িত্বপালনকালীন যারা ডিরেক্টর (ইন্টেলিজেন্স) হিসেবে কাজ করেছেন তারা হলেন- সারওয়ার বিন কাশেম, খায়রুল ইসলাম ও মশিউর রহমান। আমি র‍্যাবে দায়িত্বপালনকালীন টিএফআই সেলের বিনা বিচারে বন্দিদের আটক রাখা এবং নির্যাতন করা বা কাউকে ক্রসফায়ারে হত্যা করার কিছু কিছু বিষয় জানতাম কিন্তু আমি কোনো তদন্ত করিনি বা এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি। কারণ এসব ব্যাপারে সিদ্ধান্তগুলো অন্যান্য বাহিনীর এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আসতো এবং তারা সেগুলো বাস্তবায়ন করতো। এমনকি পুলিশ প্রধান হয়েও আমি র‍্যাবের এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি বা করতে পারিনি। কারণ এ বিষয়গুলো গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বাস্তবায়ন করতো এবং কিছু কিছু বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা তারিক সিদ্দিকির কাছ থেকে নির্দেশনা আসতো। অনেক ক্ষেত্রে আমার কথাকে গুরুত্ব দিত না।

জবানবন্দিতে তিনি আরও বলেন, র‍্যাব যে সমস্ত আভিযানিক কাজ পরিচালনা করে সেগুলো অধিকাংশ গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ও পরামর্শের ভিত্তিতে করে। এ ব্যাপারে আইজিপিকে প্রায়শই জিজ্ঞাসা করা হতো না। র‍্যাবের আলেপ উদ্দিন এবং মহিউদ্দিন ফারুকীকে আমি চিনতাম। আলেপ প্রথমে নারায়ণগঞ্জে র‍্যাবে ছিলেন, পরবর্তীতে এডিশনাল ডিরেক্টর জেনারেল (অপারেশন) এর প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে তাকে র‌্যাব (ইন্টেলিজেন্স) এ পদায়ন করা হয়।

র‌্যাব (ইন্টেলিজেন্স) এ অনেক অফিসার ছিলেন। গুমসহ বিভিন্ন অপেশাদার কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে আলেপের বিশেষ দক্ষতার জন্য তাকে র‍্যাবের অফিসাররা পছন্দ করতেন। কারণ তিনি এই কাজে পুলিশ অফিসারদের মধ্য থেকে নিয়োজিত অফিসার হিসেবে বিশেষ কুখ্যাতি অর্জন করেছিলেন। নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত র‍্যাবের বাকি অফিসারদের অধিকাংশই ছিল মিলিটারি অফিসার। কাউকে উঠিয়ে আনা, গুম করে রাখার মতো বিষয়গুলো জেনারেল তারিক সিদ্দিকি সরাসরি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতেন। এ ব্যাপারে পুলিশের আইজি হওয়া সত্ত্বেও আমাকে সবকিছু অবহিত করা হতো না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd