• শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় গবেষণা-উদ্ভাবনে অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ শুরু হতে আর মাত্র ৬ দিন বাকি, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ম্যাচ কখন কোথায় এক নজরে দেখে নিন ক্ষতির শঙ্কায় সিলেটের ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত আইজিপি হলেন সিলেটের ডিআইজি মুশফেকুর রহমান সিন্ডিকেটের কব্জায় ওসমানী হাসপাতাল সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক: যেন অনিয়ম ও লুটপাটের স্থায়ী চারণভূমি আ.লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে : ইশরাক চেয়ারম্যানসহ বিএসইসির চার কমিশনারের পদত্যাগ ভোটের আগে জামায়াতের জয়ের হাইপ তোলা হয়েছিল, কিন্তু মানুষ ভুল করেনি: মির্জা ফখরুল নেইমার জুনিয়রের পিঠেই উঠছে ব্রাজিলের ঐতিহ্যবাহী ‘১০ নম্বর’ জার্সি দিরাইয়ে অনলাইন জুয়ার গ্রাস, বাড়ছে অপরাধ গরুর ভুঁড়ি সহজেই পরিষ্কার করবেন যেভাবে বিশ্বকাপের বলেও চার্জ! ২০২৬ আসরে প্রযুক্তির নতুন চমক বিশ্বকাপ ২০২৬: কোন শহরে থাকছে আপনার প্রিয় দল ঈদে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা: মন্ত্রী বিএনপিও পুলিশকে লাঠিয়াল বাহিনীর মতো ব্যবহার করতে চায়: হাসনাত বিশ্বনাথে বিদ‍্যালয়ের নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন করলেন এমপি লুনা টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নিহতদের ১৩ জনের বাড়িই নওগাঁয় সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ বাংলাদেশি নিহত সিলেটে ছি ন তা ই কা রী বাপ্পী বিএনপি নেতার ছেলে!

সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়ক: যেন অনিয়ম ও লুটপাটের স্থায়ী চারণভূমি

Reporter Name / ৮ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬

15

একটি টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা যেকোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘সালুটিকর-গোয়াইন ঘাট ’ সড়কটির ক্ষেত্রে উন্নয়ন যেন এক অন্তহীন দুর্ভোগ আর দুর্নীতির গল্পে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে এই সড়কের ১০ কিলোমিটার অংশে আরসিসি (RCC) ঢালাইয়ের কাজ নিয়ে যা চলছে, তাকে কোনোভাবেই জনকল্যাণমূলক কাজ বলা চলে না; বরং এটি এখন অনিয়ম ও লুটপাটের কারখানায় রূপান্তরিত হয়েছে।

​আমরা জানি, এই সড়কের টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রাথমিকভাবে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালে কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি ও বড় ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সোচ্চার হন। মানববন্ধন, তীব্র প্রতিবাদ এবং বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হয়। তদন্তে দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় পূর্বের ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল, জরিমানা এবং লাইসেন্স বাজেয়াপ্তকরণের মতো প্রশংসনীয় পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। পরবর্তীতে বাজেট বৃদ্ধি করে অবশিষ্ট অংশের জন্য পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়।
​নতুন টেন্ডার এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগের পর ভাবা হয়েছিল, এবার হয়তো সড়কটি তার কাঙ্ক্ষিত রূপ ফিরে পাবে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বর্তমান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডেও এখন ‘শুভঙ্করের ফাঁকি’ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম দিকে লোকদেখানো ভালো কাজ করলেও, বর্তমান কাজের চিত্র চরম হতাশাজনক।
​সরেজমিনে সড়কের বর্তমান চিত্র ও অনিয়মের খতিয়ান:
​নিম্নমানের গর্ত ভরাট: পুরো রাস্তাটি বর্তমানে খানাখন্দে ভরা। নিয়ম অনুযায়ী এসব গভীর গর্ত কনক্রিট দিয়ে ভরাট করে মজবুত করার পর ঢালাই দেওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে নামমাত্র ‘বিট বালু’ দিয়ে গর্তগুলো ভরাট করা হচ্ছে, যা চরম টেকসইহীন।

​প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতির অপব্যবহার: বালু ভরাট করার পর তা রোলার দিয়ে চেপে শক্ত করা হচ্ছে না। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ঢালাইয়ের সময় কোনো ধরনের ‘ভাইব্রেটর মেশিন’ ব্যবহার করা হচ্ছে না, যা আরসিসি ঢালাইয়ের স্থায়িত্বের জন্য বাধ্যতামূলক।

​অনুপাতের কারচুপি: ঢালাইয়ের মিশ্রণটি (মিক্সিং) মূল কাজের স্থান থেকে দূরে বা আড়ালে করার কারণে পাথর, বালু ও সিমেন্টের সঠিক অনুপাত যাচাই করার কোনো সুযোগ থাকছে না। খালি চোখে দেখলেই বোঝা যায়, মিশ্রণে পাথরের তুলনায় বালুর পরিমাণ কয়েক গুণ বেশি এবং সিমেন্টের পরিমাণ নামমাত্র।

​প্রকৃতির দোহাই ও তাড়াহুড়ো: রোদ, মেঘ কিংবা ঝড়-বৃষ্টি—যেকোনো বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেই তড়িঘড়ি করে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করার এক অদ্ভুত প্রতিযোগিতা চলছে।

​এই চরম অব্যবস্থাপনার বাস্তব ফলাফল যা হওয়ার ঠিক তা-ই হচ্ছে—একদিকে রাস্তার ঢালাইয়ের কাজ এগিয়ে চলছে, অন্যদিকে উদ্বোধনের আগেই তা ভেঙে বা ধসে যাচ্ছে। এটি কেবল সরকারি অর্থের অপচয়ই নয়, বরং জনগণের টেকসই সড়ক পাওয়ার মৌলিক অধিকারের সঙ্গে এক ধরনের নিষ্ঠুর তামাশা।

​এভাবে চলতে থাকলে সরকারের কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প সম্পূর্ণ ভেস্তে যাবে এবং গোয়াইনঘাট-সালুটিকর সড়কের দুর্ভোগ কোনোদিনই শেষ হবে না। আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি—অনতিবিলম্বে এই চলমান কাজের গুণগত মান কঠোরভাবে খতিয়ে দেখা হোক। টেকসই ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান ঠিকাদারের কাজের ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং প্রয়োজনে আবারও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd