• সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ উদ্ধার জাতিসংঘে প্রথম ভাষণে দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী নতুন কমিটি পেল সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদল, দায়িত্বে কারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভারত সীমান্তে মিলল নিখোঁজ বাংলাদেশি কিশোরের মরদেহ হবিগঞ্জে চা বাগান থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার প্রকাশিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি সাদিক কায়েমের শাহজালাল মাজারে দানবক্সে মিললো ৮৯ লাখ টাকা, সোনা-বৈদেশিক মুদ্রা জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসঙ্ঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার ১৭৯ রাজধানীতে যাত্রীবাহী বাসে আগুন এক আইফোনের জন্য মেরে ফেললি, এ রকম ১০ ফোন মুক্তিপণ চাইতি—দিতাম নতুন পে-স্কেল: সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা না করলে লংমার্চ করার প্রয়োজন হতো না-ডা. শফিকুর রহমান সিরাজগঞ্জে লংমার্চে আসা জামায়াত নেতাদের ওপর বিএনপির হামলা, গুরুতর আহত ২ পরীক্ষায় চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের সময় ধরা, পরে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার সুনামগঞ্জে তিন শিশুকে হত্যার পর বাবার বিষপান কোরআন সম্পর্কে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি খতমে নবুওয়াতের সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী হামজাদের সঙ্গে নতুন তিন প্রবাসী ফারহান, জিদান ও শুকি

ভারতসহ তিন দেশের কাছে বন্যার ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল

Reporter Name / ৩২ Time View
Update : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

69

ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির পর জলবায়ু ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে নেপাল। দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশগুলোর মধ্যে চীন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করে বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর রয়েছে। খবর ইন্ডিয়া‍টুডের।

বাগমতী প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি করা ভোতেকোশি নদীর বন্যায় অন্তত ১ হাজার ১২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে বিশাল পাথর ও বরফ ধসের কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিপূরণের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জোরালোভাবে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র ‘বালেন’ শাহকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে নেপাল। দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহের নিউইয়র্ক সফরের প্রস্তাবটি বর্তমানে আলোচনা করা হচ্ছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেন, যেসব দেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নে সবচেয়ে কম অবদান রেখেও এর ক্ষতির শিকার হচ্ছে, তাদের ক্ষতিপূরণ দেয়া বড় নির্গমনকারী দেশগুলোর দায়িত্ব।

কান্তিপুর টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের কূটনৈতিক কাঠামোকে সহায়তা থেকে ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণের দিকে পরিবর্তন করছি।’

‘বন্যার ক্ষতিপূরণ দান নয়, ন্যায়বিচার’

খানাল বলেন, রাসুয়ার এই দুর্যোগকে শুধু মানবিক সংকট হিসেবে দেখলে হবে না, যার জন্য দান বা সহায়তা প্রয়োজন। বড় শিল্পোন্নত অর্থনীতিগুলোর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়াকে তিনি দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।

কান্তিপুর টিভিকে তিনি বলেন, ‘এটি দাতব্যের বিষয় নয়; এটি আইনি ও নৈতিক দায়বদ্ধতার বিষয়।’

খানাল চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে বর্তমানে বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং নেপালের মতো দেশকে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দায়িত্ব তাদের রয়েছে বলে দাবি করেন।

ইন্ডিয়া ‍টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়,মোট নির্গমনের পরিমাণে ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নির্গমনকারী হলেও দেশটির মাথাপিছু ও ঐতিহাসিক কার্বন নির্গমন উন্নত দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ইউরোপীয় কমিশনের ২০২৪ সালের EDGAR হিসাব অনুযায়ী, মোট নির্গমনের হিসাবে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত বিশ্বের তিন বৃহত্তম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনকারী দেশ। মাথাপিছু হিসাবে ভারত প্রায় ৩ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO2)-সমতুল্য নির্গমন করে। চীনের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১১ টন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ টনের বেশি।ভারত দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্ব নির্ধারণের সময় ঐতিহাসিক নির্গমন, মাথাপিছু নির্গমন, উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এবং আগে শিল্পায়িত হয়ে এর সুবিধা পাওয়া দেশগুলোর বেশি দায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত।

২৬ আগস্ট ভোতেকোশি নদীর অববাহিকায় ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত রয়েছেন।

নেপাল এই দুর্যোগকে ‘হিমালয়ান সুনামি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

নেপাল পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হাজারো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ ও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের কাছের উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল থেকে বন্যার সূত্রপাত হয়েছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এর সম্পর্ক কতটা, তা নিশ্চিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

প্রাথমিক মূল্যায়নে পাথর ও বরফের ধস, অস্থিতিশীল হিমবাহ এবং হিমালয়ের বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তনকে বন্যার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

ভূমিকম্পপ্রবণ উচ্চ ঝুঁকির এই এলাকায় বন্যার ঘটনা ভঙ্গুর হিমালয় অঞ্চলে চীনের নির্মিত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, বন্যায় ধ্বংস হওয়া অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে নেপালের ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। এই অর্থ দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

জরুরি আর্থিক সহায়তার জন্য নেপাল জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ’-এর কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd