সাংবাদিক কাজী রমিজ উদ্দিন :
১৩ জুন ২০১২ খ্রিঃ। হঠাৎ খবর আসে এক বেদনার সংবাদ। কোরআনের পাখি আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর সুযোগ্য সন্তান মাওলানা রাফিক বিন সাঈদী আর নেই। তখনই শিহরিত হয়ে ওঠে হৃদয়। বারবার ভগ্ন হৃদয়ে স্মৃতির পাতায় ভাসছিল বরেণ্য এ আলেমের জীবনী। বৃহত্তর সিলেট তথা মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত বড়লেখায় তাঁর সফর সঙ্গী হওয়ার মাধ্যমে সান্নিধ্য লাভের সুবাধেই জীবনে চলার পথে জমে আছে বহু স্মৃতি। কিছু ঘটনা, যা আমার জীবনের বাঁক বদলের একটি অধ্যায়; যাতে রুপান্তরিত হয়েছে মায়া মমতার এক সেতু বন্ধন। তখনকার সময়ে বেদনার্ত হৃদয়ে এ স্মৃতিকথা লেখা।
আজ রাফীক বিন সাঈদীর ১৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী। তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের কিছু স্মৃতিচারণ পূর্বক: এই আলোক বর্তিকায় জীবন ও কর্মকান্ডের স্মৃতি নিয়ে লিখতে, যা কিনা অনুপ্রানিত করে আমার হৃদয় ও সমাজের আলোকিত মানুষকে। ইসলামী মিডিয়া তথা মুসলিম সমাজে তাঁর কর্ম, আদর্শ ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা বর্তমান জীবন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান আহরণ করতে মাইলফলক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে সকলের অজান্তে। বলাবাহুল্য তিনি নিরলসভাবে কোরআনের বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছেন দেশের সীমানা পেরিয়ে ভারত, পাকিস্তান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানী, ইতালী, স্পেনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে।
উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী পন্ডীত পবিত্র কোরআনের সহী তাফসীরকারক তরুণ বক্তা আল্লামা রাফিক বিন সাঈদী ১৯৬৬ সালের ১০ই এপ্রিল রোজ বুধবার সকালে ফিরোজপুর জেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফচ্ছিরে কোরআন ও সাবেক সাংসদ আল্লামা দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর চার সন্তানের মধ্যে জেষ্ঠ্য সন্তান। তিনি তার পিতামহ দক্ষিণ বাংলার আলেমে দ্বীন মাওলানা ইউসুফ সাঈদীর কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। অতঃপর তিনি খুলনা আলিয়া মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তিতে তিনি নরসিংদীর প্রসিদ্ধ দ্বীনি প্রতিষ্ঠান জামেয়া ই কাশেমীয়া মাদ্রাসা থেকে কৃতিত্বের সাথে দাখিল পাশ করার পর ঢাকার প্রখ্যাত তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম ও ফাজিল পাশ করেন। এর পর তিনি ঐতিহ্যবাহী সরকারী মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা থেকে কামিল পাশ করেন। এছাড়া তিনি সৌদি আরবের বিখ্যাত উন্মুল কুরা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রী লাভ করে মানব কল্যাণে নিবেদিত হন।
উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৯০ খ্রিঃ ফালাহ-ই-আম ট্রাস্টের সাবেক চেয়ারম্যান এবং দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার প্রকাশক সাইয়্যেদ মুসাইয়্যেদ হোসাইন হুমায়ুন এবং বেগম সিমা সানিয়ার জ্যেষ্ঠ কন্যা সাইয়্যেদা সুমাইয়া ফারাজিয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুটি মেয়ে যথাক্রমে-তাসনুভা তামান্না ও ইশরাত লুবায়না সাঈদী বিবাহিতা এবং একমাত্র ছেলে মুনাওয়ার যীশান সাঈদী বর্তমানেই শিক্ষার্থী। বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য যে, আল্লামা রাফীক বিন সাঈদী খুলনার দারুল কোরআন সিদ্দিকিয়া কামিল মাদ্রাসার রেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মময় জীবনে তিনি যখন ক্লান্ত এবং উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ব্যতিব্যস্ত, চিন্তিত তখনই ইসলামী এ মহান সেবক গত ১৩ জুন ২০১২ খ্রিঃ রোজ বুধবার কথিত আন্তর্জাতিক মানবতা বিরোধী ট্রাইব্যুনালে জনপ্রিয় জননেতা আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলার স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য গ্রহণ চলাকালীন তিনি আদালত প্রাঙ্গনেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ইন্তেকাল করেন।
মাওলানা রাফীক বিন সাঈনী ছিলেন সদালাপী, হাস্যোজ্জ্বল, নিরহংকারী, প্রফুল্লচিত্তের অধিকারী এবং সুমিষ্টভাষী প্রাজ্ঞ বক্তা। ছাত্রজীবন থেকেই লেখালেখিতে ছিলেন পারদর্শী। ফলে তৎকালীন সময় থেকে তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ ও রচনা সমূহ দেশ বিদেশের বিভিন্ন জার্নাল ও সাময়িকীতে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে প্রকাশিত হয়। ছাত্রজীবনেই তিনি মাসিক আরাফাত ডাইজেস্ট নামক পত্রিকা সম্পাদন করেন এবং তার রচিত গ্রন্থ “ইসলামী জীবনধারা” পাঠকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়। প্রধানযোগ্য যে, তিনি বাংলা, আরবী, উর্দু এবং ইংরেজী ভাষা অত্যন্ত পারদর্শি হওয়ায় তার জ্ঞানগর্ভ আলোচনা এবং তাফসীর সহজবোধ্য হওয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে সাধারণ মানুষকে অনুপ্রাণিত করায় তিনি খ্যাতির শীর্ষে আহরণে সক্ষম হন।
স্মৃতিচারণে বার বার মনে পড়ে রাফীক বিন সাঈদীর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাত, পরিচয় ও আন্তরিক বন্ধন তৈরীর সূচনা লগ্ন। আমি মৌলভীবাজার জেলার অন্তর্গত বড়লেখা উপজেলার বাসিন্দা। সিলেট অঞ্চলের ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল বেশিরভাগই হয় মৌলভীবাজার জেলায়। এর মধ্যে বড়লেখা উপজেলায় ওয়াজ মাহফিল ও তাফসির মাহফিলের আয়োজন তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি হয়ে থাকে। সেই সুবাদে এবং ইসলামী সেবার উদ্দেশ্যে আমরা বড়লেখার দৌলতপুর অঞ্চলে ২০০০খ্রিঃ সনে প্রতিষ্ঠা করি একটি সামাজিক ও সেবা সংগঠন “দৌলতপুর দিশারী সমাজকল্যাণ পরিষদ”। আর আমিই উপরোক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে কার্যক্রম করি। অতঃপর সংগঠনের পক্ষ থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান এবং তাফসির মাহফিলের কার্যক্রম হাতে নেই। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০২ খ্রিঃ ভারতের আসামের পাহাড়ী এলাকা থেকে নেমে আসা সুনাই নদীর তীরবর্তী দৌলতপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে এক তাফসির মাহফিল কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত তাফসির মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় রাফিক বিন সাঈদীকে। এরই ধারাবাহিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ এক দাওয়াতপত্র নিয়ে উপস্থিত হই আরাফাত মঞ্জিল ঢাকায়। তৎপর তার বন্ধুবৎসল আচরণ ও অতিথেয়তায় মুগ্ধ হই সারা জীবনের তরে। তিনিও প্রধান অতিথির আমন্ত্রণ সাধরে গ্রহণ করে অসীম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আমাদের প্রতি।
২০০২ খ্রিঃ ২০ ও ২১ শে জানুয়ারী তারিখে মাহফিল শুরুর পূর্ব মুহুর্তে আমাদের সকলের মন প্রাণ ছুয়ে যায় অজানা এক আনন্দে। আমারও শরীর শিহরীত হয় প্রধান অতিথির আগমণ বার্তায়। আমি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাঁকে গ্রহণ করতে সকাল বেলায় চলে যাই সিলেট ওসমানী বিমানবন্দর। প্রতীক্ষার প্রহর শেষে তিনি বেলা ১১.০০ ঘটিকায় বাংলাদেশ বিমানে সিলেট অবতরণ করেন। তারপর তাঁকে নিয়ে আমি সোজা মাহফিল স্থলে চলে আসি। রাত ৯.০০ ঘটিকায় হাজার হাজার ধর্মপ্রান মুসলমানের সম্মুখে পবিত্র কোরআন থেকে জীবনধর্মী তাফসির পেশ করে সকলের মন জয় করেন। ঐ দিন মাহফিল শেষে রাত্রি যাপন করে পরদিন আমাদের পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দের নিয়ে দেশের একমাত্র স্বীকৃত জলপ্রপাত মাধবকুণ্ডে যাই। মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে এটা ছিল রাফীক সাঈদীর প্রথম ভ্রমণ। জলপ্রপাতের সুমিষ্ট ধ্বনি, জল পতনের দৃশ্য, সবুজ পাহাড় এসব দেখে সেদিন এক শিশু রাফীক বিন সাঈদীকে আবিষ্কার করেছিলাম। উচ্ছ্বসিত অবস্থায় তিনি বারবার বলছিলেন সুবহানআল্লাহ, মহান রাব্বুল আলামীনের সৃষ্টি যদি এত সুন্দর হয় তবে তিনি কত সুন্দর। এরপর আমার সাথে যতবারই দেখা হয়েছে, তিনি মাধবকুণ্ডের নৈস্যর্গিক সৌন্দর্যের কথা আগে বলেছেন। যাহা দৈনিক সংগ্রামে ফলাও ভাবে ছাপা হয়েছে।
উপরোক্ত মাহফিল ও পরবর্তীতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পরিভ্রমণ শেষে রাফীক বিন সাঈদীর বিদায় মুহুর্ত পর্যন্ত তাঁর সান্নিধ্য লাভ করি। পরবর্তীতে বহুবার যোগাযোগের মাধ্যমে তাঁর সাথে চলাফেরা এবং আন্তরিকতা হওয়ায় ঢাকায় গিয়ে তাঁর সাথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করি এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান পরিদর্শন করার সুযোগ হয়। এই সেতুবন্ধন তাঁর আর আমার মাঝে চীরদিনের মমতাময়ী এক হৃদয়স্পর্শী সম্পর্ক তৈরী করে। এর পর যতবার ঢাকায় গিয়েছি প্রতিবারই শহীদবাগস্থ বাসায় তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সলাপরামর্শের মাধ্যমে অর্জিত হতে থাকে জীবন চলার পাথেয়। তাই বলতে চাই জীবনধর্মী জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় তার কর্মকান্ড পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে গভীরভাবে অনুপ্রানিত করছে।
২০০৪ খ্রিঃ বাৎসরিক তাফসীর মাহফিলের আয়োজনকল্পে আবারো ছুটে যাই প্রিয় মানুষ রাফীক বিন সাইদীর কাছে শহীদবাগস্থ বাসায়। এবারের মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে তাঁর সুযোগ্য পিতা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলীম, বহুভাষাবিদ আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমন্ত্রণ জানাই। প্রথমে তিনি ব্যস্ততার কারণে প্রধান অতিথি হতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তারপর রাফীক বিন সাঈদীর অনুরোধে পিতা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন, ফলে ১৭ ও ১৮ই মার্চ ২০০৪ খ্রিঃ দৌলতপুর দিশারী সমাজ কল্যাণ পরিষদের ব্যবস্থাপনায় তাফসীর মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত মাহফিলে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বক্তা আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রধান অতিথির ভাষণ শুনার জন্য যে বিপুল জনসমাগম ঘটে, তা বড়লেখা ও বিয়ানীবাজার তথা দুই জেলার প্রান্তিক জনপদে আর কখনো ঘটেনি। এলাকায় সাঈদী পরিবার বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন তখন থেকেই।
রাফীক বিন সাঈদীকে নিয়ে স্মৃতির পাতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে ২০০৮ সালের চমকিত একটি ঘটনা। আমি আমার কাজে অফিসে বসে কোন একদিন দাপ্তরীক কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এমতাবস্থায় আনুমানিক সকাল ১১.০০ ঘটিকায় রাফীক বিন সাঈদীর ফোন- কাজী সাহেব আপনি কোথায় আছেন? প্রতি উত্তরে আমি বলি- আমি আমার অফিসে আছি। অপর প্রান্ত থেকে তিনি আমাকে বলেন- আপনি ১ ঘন্টা আপনার অফিসে থাকেন, আমি আসছি। ফোন শুনে আমি অত্যন্ত চমকিত ও বিচলিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি। এত প্রিয় মানুষের হঠাৎ আগমনের আমি পুলকিত হয়ে অফিসে অপেক্ষা করি। অতঃপর তিনি আমার অফিসে প্রবেশ করেন। তিনি সামান্য চা নাস্তা শেষ করে পার্শ্ববর্তী জেলার একটি মাহফিলে আমাকে তাঁর সঙ্গে যেতে আহ্বান করেন। আমি তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সফর সঙ্গী হয়ে উক্ত মাহফিলে যাই। এভাবে রাফিক বিন সাঈদীকে ঘিরে আমার জীবনের সব চমকীত ও হৃদ্যতাজনিত ঘটনা বললে এই লেখার কলেবর বেড়ে যাবে।
রাফীক বিন সাঈদী কে নিয়ে আমার স্মৃতির খেরোখাতায় অম্লান হয়ে আছে শেষবারের দেখা সাক্ষাৎ। তাঁর মৃত্যুর মাত্র ১মাস পূর্বে বড়লেখা শহরের একটি তাফসীর মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসাবে আসতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তাঁর পিতা আল্লামা সাঈদীর মামলা সংক্রান্ত ঝামেলায় তিনি উক্ত মাহফিলে আসতে পারছিলেন না। এরপর আমি দিনভর তাঁর সাথে যোগাযোগ ও অনুরোধ করি। নাছোড়বান্ধা হিসেবে বারবার আমার অনুরোধের কারণে তিনি বিকাল চার ঘটিকায় প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে ঢাকা থেকে বড়লেখায় রওয়ানা হন এবং রাত্রি ১১.০০ ঘটিকায় মাহফিলে উপস্থিত হতে সক্ষম হন। তৎপর প্রধান অতিথির ভাষণ শেষে রাত্রি ১.৩০ মিনিটের সময় আবারও ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। আমি তাঁর বিদায় মুহুর্ত পর্যন্ত তাঁর সাথেই ছিলাম। কে জানতো এটাই হবে আমার শেষ সাক্ষাত ও কথোপকতন। এরই মাসখানেক পর ১৩ই জুন ২০১২ খ্রিঃ আমার অফিসে বসে কাজ করছিলাম। হঠাৎ আমার চোখ আটকে যায় টিভির স্ক্রলিংয়ে। আল্লামা সাঈদী পুত্র রাফীক বিন সাঈদী আর নেই। পিতার বিরুদ্ধে সাজানো মিথ্যা মামলার স্বাক্ষী গ্রহণকালে তিনি হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। আল্লাহর মহান এক বান্দার বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ ইত্যাদি সাজানো মামলার অভিযোগ পুরো দেশই যেখানে মেনে নিতে পারছে না; সেখানে পিতাকে ভালো করে জানাশোনার জেষ্ঠ্যপুত্র সে অপবাদ কেমনে সহ্য করেন। তিনি সইতে না পেরে পাড়ি জমান মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে।
টিভির স্ক্রলিং দেখার পর যেন আমার হাত-পা বন্ধ হয়ে আসছিল। এ কী দেখছি আমি। মুহূর্তে মূর্ছা যাই! তারপর পূর্ণ নিউজ দেখে ব্যথাভরা চিত্তে নিশ্চিত হই যে আমার প্রিয় এই মানুষটি আর নেই। তাঁর স্মৃতি, চিন্তা এবং ইসলামীক ভাবনা ইত্যাদি যখন আমি মন্থন করি কষ্ট পাই। কখনো ভুলে যাওয়া সম্ভব হয় না তাঁর কথা, স্মৃতি, মোহিত করা আচরণ এবং ইসলামী ভাবধারায় যাপীত জীবন। সবই প্রত্যক্ষ করেছি যে, তাঁর খুব কাছ থেকেই।
অতএব, তাঁর এসবই কর্মকান্ড ও আদর্শ স্মৃতি হয়ে ভীষণভাবে কাঁদায় আমাকে। আজও তার কার্যক্রম ও আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব হাতছানি দিয়ে ডাকে আমাকে। তাই পরম করুণাময়ের নিকট সদা আরজী, সদা প্রার্থণা মহান আল্লাহ তা’লা যেন বেহেস্তবাসী করেন আমার প্রেরণার উৎস, চিরস্বরনীয় আদর্শ মাওলানা আল্লামা রফীক বিন সাঈদীকে আল্লাহ কবুল করুন তাঁকে, আমিন।
লেখক পরিচিতিঃ দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার বড়লেখা উপজেলা সংবাদদাতা ও বড়লেখা প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক।
নিকাহ রেজিষ্ট্রার, ৪নং উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন, বড়লেখা, মৌলভীবাজার ।
মোবাইলঃ ০১৭১৩-৫৯৫৬৪৯