• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কানাইঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নগদ টাকা জব্দ জনদুর্ভোগ নিরসনে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও সুষম বণ্টনের দাবি সিলেট জামায়াতের ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা হরমুজের রক্ষকরা আপনার পা ভেঙে দেবে : ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধান গৃহবধূ থেকে যেভাবে অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার খুলে দিচ্ছেন সেবা, ভুয়া চিকিৎসককে বড় অংকের জরিমানা বর্ষাকালে কোন ফল ফ্রিজে রাখবেন, কোনটি বাইরে রাখবেন আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের জ্বালানি সংকট সমাধানে তিন মাস আগে দেওয়া জামায়াতের পরিকল্পনার অগ্রগতি কী বিশ্বনাথে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন এমপি লুনা চাঁদাবাজি চলবে না, এখানকার সরকার আমি: আমির হামজা সিলেটে বাসা-বাড়ি নির্মাণ নিয়ে যে নির্দেশনা দিল সিউক হামলাকারীরা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু: আমির হামজা আল্লামা সাঈদী অর্ধশতাব্দী মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছেন -মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮ তারেক রহমান দিল্লি যাবেন না নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যেকোনো সময় ঘোষণা হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর

গৃহবধূ থেকে যেভাবে অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া

Reporter Name / ১১ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

14
ধুলো উড়ে ওঠা রাজপথে ভাঙা মিছিলের ভেতরেও কখনো নত হয়নি তাঁর চোখের দৃষ্টি। লাঠিচার্জ, গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস আর রাজনীতির কঠিন মুহূর্তগুলোও থামাতে পারেনি যাঁকে। তিনি খালেদা জিয়া।
১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর নেতৃত্বশূন্য হয় বিএনপি। তখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কার্যত নতুন। এরশাদ সরকারের অধীনে কোনো সমঝোতা বা নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারাবাহিক আন্দোলন, অবরোধ ও গণবিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।
সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ডান-বাম সব রাজনৈতিক শক্তি একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শেখ হাসিনা নির্বাচনকে স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেওয়ার সমতুল্য বললেও শেষ পর্যন্ত অংশ নেন।
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, মাইনাস-টু ফর্মুলা বা বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে জেলও খেটেছেন খালেদা জিয়া। কারাবন্দী অবস্থায় আপসের সুযোগ ছিল, দরজা খোলা ছিল সমঝোতার। তবু তিনি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মুক্তির শর্ত নয়, দাঁড়াতে চান জনগণের রায়ে।
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর, সেনানিবাসের নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ হন খালেদা জিয়া। এক ঘণ্টার ব্যবধানে এক কাপড়ে ছাড়তে হয় চার দশকের মায়ার বন্ধন। প্রতিহিংসা এতটাই ছিল যে বাড়িটি মিশিয়ে দেওয়া হয় মাটির সঙ্গে। মুছে ফেলা হয় সব স্মৃতি। সেদিন খালেদা জিয়ার কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় দেশবাসীকে।
তবুও প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ আন্দোলন, অবরোধ, অবিচল প্রতিরোধের সময়েও কঠিন এক সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন বেগম জিয়া। পরিস্থিতির জন্য দায় নিয়ে সেফ এক্সিটের সহজ রাস্তায় হাঁটেননি।
সমঝোতার এমন প্রস্তাব যখনই এসেছে, তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন থেকেছেন আন্দোলনের মাঠে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে সংলাপের বিভিন্ন প্রস্তাব সত্ত্বেও মূল দাবিতে আপস করেননি তিনি।
তবে গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে কখনো কখনো আলোচনার টেবিলেও এসেছেন খালেদা জিয়া। কারণ রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল সংঘাতের নয়, জনগণের অধিকারের প্রশ্ন।
নেত্রী হিসেবে আপসহীন, আবার রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে আলোচনাতেও প্রস্তুত। সমঝোতার সহজ পথ সামনে রেখেও যিনি বারবার বেছে নিয়েছেন প্রতিরোধ। তিনি শুধু বিএনপির ভরসাই নন, হয়ে উঠেছেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকও। তাই রাজনীতির অভিধানে তাঁর নামের পাশে জুড়ে গেছে এক বিশেষ পরিচয়—আপসহীন নেত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd