• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সিলেটে বেড়েছে মশার উপদ্রব, ফগার মেশিন হাতে মশক নিধনে সিসিক প্রশাসক সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিল প্রস্তুতি, আ ট ক ২ আইজিপির দায়িত্ব থেকে অতি দ্রুত সরে যাওয়া উচিত: নাহিদ ইসলাম বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ, লগি-বৈঠার তাণ্ডবে নিহত হন ১৩ জন ফায়ার সার্ভিসকে বিশ্বমানের করতে হবে : বাণিজ্যমন্ত্রী বড়লেখায় মাত্র ৯০ টাকার জন্য প্রাণ গেল দর্জির প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপে প্রেসক্লাব বিলুপ্ত করা যাবে না নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে নৈশভোজে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ: আইজিপি জামিন মেলেনি আখতারুজ্জামানের সিলেটে তরুণ-তরুণীর ছবি ছড়িয়ে ধর্মীয় পরিচয়ে হেনস্তা, মেহমান রেস্টুরেন্টের দুই কর্মী গ্রেপ্তার সাড়ে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ ট্রাকচালক হোসেন হত্যায় হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু শাদাবের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়, শেষ জুটিতে রেকর্ড এশিয়ার সেরা ২০ সমুদ্রসৈকতের তালিকায় কক্সবাজার কি আছে শাহজালাল মাজারের দানবাক্সে আরও মিললো ৮৯ লাখ টাকা, মিলেছে বিদেশি মুদ্রা-স্বর্ণ-রুপা জুড়ী-বড়লেখা সীমান্তে তিন দিনে ৩০ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা, প্রতিহত করলো বিজিবি বাংলাদেশ সাফ দলে দুই নতুন মুখ রোনান ও মাহি

গৃহবধূ থেকে যেভাবে অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া

Reporter Name / ৫৮ Time View
Update : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

84
ধুলো উড়ে ওঠা রাজপথে ভাঙা মিছিলের ভেতরেও কখনো নত হয়নি তাঁর চোখের দৃষ্টি। লাঠিচার্জ, গ্রেনেড, টিয়ারগ্যাস আর রাজনীতির কঠিন মুহূর্তগুলোও থামাতে পারেনি যাঁকে। তিনি খালেদা জিয়া।
১৯৮২ সালে এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর নেতৃত্বশূন্য হয় বিএনপি। তখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে কার্যত নতুন। এরশাদ সরকারের অধীনে কোনো সমঝোতা বা নির্বাচনে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান। ধারাবাহিক আন্দোলন, অবরোধ ও গণবিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন।
সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে যখন আন্দোলন তুঙ্গে, তখন ডান-বাম সব রাজনৈতিক শক্তি একযোগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি তোলে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শেখ হাসিনা নির্বাচনকে স্বৈরশাসনকে বৈধতা দেওয়ার সমতুল্য বললেও শেষ পর্যন্ত অংশ নেন।
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়, মাইনাস-টু ফর্মুলা বা বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র শুরু হয়। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হয়ে জেলও খেটেছেন খালেদা জিয়া। কারাবন্দী অবস্থায় আপসের সুযোগ ছিল, দরজা খোলা ছিল সমঝোতার। তবু তিনি নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। মুক্তির শর্ত নয়, দাঁড়াতে চান জনগণের রায়ে।
২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর, সেনানিবাসের নিজ বাসভবন থেকে উচ্ছেদ হন খালেদা জিয়া। এক ঘণ্টার ব্যবধানে এক কাপড়ে ছাড়তে হয় চার দশকের মায়ার বন্ধন। প্রতিহিংসা এতটাই ছিল যে বাড়িটি মিশিয়ে দেওয়া হয় মাটির সঙ্গে। মুছে ফেলা হয় সব স্মৃতি। সেদিন খালেদা জিয়ার কান্নার ছবি ছুঁয়ে যায় দেশবাসীকে।
তবুও প্রতিহিংসাপরায়ণ হননি খালেদা জিয়া। দীর্ঘ আন্দোলন, অবরোধ, অবিচল প্রতিরোধের সময়েও কঠিন এক সিদ্ধান্তে অটল থেকেছেন বেগম জিয়া। পরিস্থিতির জন্য দায় নিয়ে সেফ এক্সিটের সহজ রাস্তায় হাঁটেননি।
সমঝোতার এমন প্রস্তাব যখনই এসেছে, তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। নির্বাচনে অংশগ্রহণ যখন প্রশ্নবিদ্ধ, তখন থেকেছেন আন্দোলনের মাঠে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক বা নির্দলীয় সরকারের দাবি না মানায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন খালেদা জিয়া। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপে সংলাপের বিভিন্ন প্রস্তাব সত্ত্বেও মূল দাবিতে আপস করেননি তিনি।
তবে গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে কখনো কখনো আলোচনার টেবিলেও এসেছেন খালেদা জিয়া। কারণ রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল সংঘাতের নয়, জনগণের অধিকারের প্রশ্ন।
নেত্রী হিসেবে আপসহীন, আবার রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে আলোচনাতেও প্রস্তুত। সমঝোতার সহজ পথ সামনে রেখেও যিনি বারবার বেছে নিয়েছেন প্রতিরোধ। তিনি শুধু বিএনপির ভরসাই নন, হয়ে উঠেছেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীকও। তাই রাজনীতির অভিধানে তাঁর নামের পাশে জুড়ে গেছে এক বিশেষ পরিচয়—আপসহীন নেত্রী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd