• মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কানাইঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নগদ টাকা জব্দ জনদুর্ভোগ নিরসনে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও সুষম বণ্টনের দাবি সিলেট জামায়াতের ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা হরমুজের রক্ষকরা আপনার পা ভেঙে দেবে : ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধান গৃহবধূ থেকে যেভাবে অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার খুলে দিচ্ছেন সেবা, ভুয়া চিকিৎসককে বড় অংকের জরিমানা বর্ষাকালে কোন ফল ফ্রিজে রাখবেন, কোনটি বাইরে রাখবেন আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য জরুরি সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ গ্রহণ করে ৪ দফা প্রস্তাব জামায়াতের জ্বালানি সংকট সমাধানে তিন মাস আগে দেওয়া জামায়াতের পরিকল্পনার অগ্রগতি কী বিশ্বনাথে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন করলেন এমপি লুনা চাঁদাবাজি চলবে না, এখানকার সরকার আমি: আমির হামজা সিলেটে বাসা-বাড়ি নির্মাণ নিয়ে যে নির্দেশনা দিল সিউক হামলাকারীরা সমাজ ও কুষ্টিয়াবাসীর শত্রু: আমির হামজা আল্লামা সাঈদী অর্ধশতাব্দী মানুষকে আল্লাহর দিকে ডেকেছেন -মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার হামের উপসর্গে আরও ৬ মৃত্যু, প্রাণহানি বেড়ে ৯০৮ তারেক রহমান দিল্লি যাবেন না নতুন পে-স্কেল চূড়ান্ত পর্যায়ে, যেকোনো সময় ঘোষণা হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর

হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর

Reporter Name / ১২ Time View
Update : রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬

18

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতই নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে বিষয়টি নিয়ে ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে আলোচনা চলছে এবং প্রত্যর্পণের বিষয়ে বর্তমান কঠোর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পথ খোঁজা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারতের কাছে যে অনুরোধ জানিয়েছে, সেটি ভারতের আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

ভারতের একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে নেওয়া হবে না। ভারতের আদালতই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের প্রক্রিয়ায় মূলত দেখা হবে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না।

আরেক ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বাংলাদেশের অনুরোধকে ঢাকা-নয়াদিল্লির বর্তমান কূটনৈতিক আলোচনার বাইরে আলাদাভাবে দেখা সম্ভব নয়। বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এর আগে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রত্যর্পণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অনুরোধের বিষয়ে বলেছিলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তা জানানো হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে জানিয়েছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে অনুরোধ করেছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে হওয়া প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রও দেওয়া হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। গত দুই বছর ধরে তিনি নয়াদিল্লির একটি গোপন স্থানে নিরাপত্তা ও আশ্রয়ে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা জানান।

আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যের দাবি, ভারতে অবস্থান করেও শেখ হাসিনা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। মাঝে মাঝে দলীয় নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকও করছেন। তাদের ভাষ্য, ৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা বছরের শেষ দিকে ঢাকায় ফেরার পরিকল্পনা করছেন।

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করছে। ওই রায়ে শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, ভারতে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলে ওই রায়কে বিভিন্ন দিক থেকে চ্যালেঞ্জ করা হবে। তাদের অন্যতম যুক্তি হবে, রায়টি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস।

ভারত ও বাংলাদেশ ২০১৩ সালে প্রত্যর্পণ চুক্তি সই করে। চুক্তিতে কোনো ব্যক্তি অপরাধে অভিযুক্ত, দোষী সাব্যস্ত বা আদালতের দেওয়া সাজা কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন হলে তাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে দুই দেশের দায়িত্বের কথা বলা হয়েছে।

তবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যসম্পন্ন অপরাধের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণের সুযোগ না রাখার বিধানও রয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা, হত্যাকাণ্ড, হামলা, আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার এবং হত্যায় প্ররোচনাসহ ১২ ধরনের অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না বলে চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

এ ছাড়া ভারতের ১৯৬২ সালের প্রত্যর্পণ আইনেও বিদেশে পালিয়ে থাকা আসামিকে ফেরত দেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, প্রত্যর্পণের অনুরোধ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরীক্ষা করতে পারে এবং একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি পাওয়া গেলে ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যর্পণের সুপারিশ করতে পারেন। অন্যদিকে, অভিযোগের পক্ষে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট প্রমাণ না থাকলে ওই ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলেছে, ফলে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি এখন কেবল দুই দেশের সরকারের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভারতের আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd