• শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে বুল্লা বাজারে কবির খাঁন চৌধুরীর গণসংযোগ জাতিকে চারিত্রিক সংকট থেকে উত্তরণ করতে হবে: বিরোধীদলীয় নেতা মাধবপুরে এনা পরিবহন-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ সিলেটে ছাত্রলীগের মিছিলে চেষ্টা, গ্রেপ্তার ২ সিলেটে ছাত্রদল নেতাকে মারধর ছাত্রলীগ নেতার, নেপথ্যে কী? সেই মাদ্রাসায় বলাৎকারের শিকার আরও অনেক শিশু, প্রতিরাতে ১/২ জনকে ‘ঘরে নিতেন’ শিক্ষক গোয়াইনঘাটে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে টাস্কফোর্সের অভিযান: ২৭টি ড্রেজার ধ্বংস, ৫ লাখ টাকা জরিমানা ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি; প্রতিনিধি পাঠানোরও সুযোগ নেই শনিবার সকালে বিদ্যুৎ থাকবে না সিলেটের অর্ধশতাধিক এলাকায় শরিয়াহবিরোধী আইন হলে ওলামায়ে কেরাম মেনে নেবে না বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে দেশের কল্যাণে কাজ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী র‌্যাবের বিলুপ্তি চেয়েছিলাম, নাম বদলে একই বাহিনী চাইনি : সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা নতুন নামে এলো র‌্যাব অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ও ফসলি জমি রক্ষায় গোয়াইনঘাটে দুই গ্রামবাসীর মানববন্ধন মহানবী (সাঃ) আদর্শ অনুসরণের মধ্যেই রয়েছে মানুষের দুনিয়া ও আখেরাতের জীবনের সফলতা-মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বিশ্বনাথে দাখিল উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করলো সোনাপুর চ‍্যারিটি গ্রুপ ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জৈন্তাপুরে এস্কেভেটর চাপায় প্রাণ গেল লরি চালকের

‘জিয়া নন, শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষক’ বিতর্কিত রায় দেন খায়রুল

Reporter Name / ৩৬১ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

157

২০০৯ সালে হাইকোর্টের বিচারপতি থাকাকালে জিয়াউর রহমান নন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।রায়ে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করেন। এই খণ্ডটি দেশবিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহারেরও নির্দেশ দেন খায়রুল হক।

রায়ে বলা হয়, যারা এরকম ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। দেশের সব মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠ্যক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বাধ্যতামূলকভাবে সন্নিবেশ করার জন্যও সরকারকে নির্দেশ দেন এই বিচারপতি।

প্রধান বিচারপতি হিসাবে তার দেওয়া অনেক বিতর্কিত রায়ের মধ্যে একটি হচ্ছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকদের আগাম জামিনের এখতিয়ার কেড়ে নেওয়া। খায়রুল হক, মোজাম্মেল হোসেন ও সুরেন্দ্র কুমার সিনহা মিলে একটি আগাম জামিনের আপিলের রায়ের মাধ্যমে এখতিয়ার কেড়ে নেন হাইকোর্ট বিভাগের।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। এরপরই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও হাসিনার আশীর্বাদ পুষ্ট অনেক আমলাও দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। আবার অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন।

তবে বহুল আলোচিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল।

অবশেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক এই প্রধান বিচারপতিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ । ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে হাসিনার দেশ ছেড়ে পালানোর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ ছাড়েন সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। এরপর থেকে অনেকটা লাপাত্তা হন তিনি। তার হাতের ছোঁয়ায় দেশের বিচার বিভাগ ও গণতন্ত্র ধ্বংস হয়ে গেছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের নেপথ্যে ছিলেন খায়রুল।

বিচারাঙ্গনে আলোচিত-সমালোচিত এই বিচারপতির আচরণের চেয়েও বেশি বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল তার কয়েকটি রায়, যা আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য সুবিধাজনক বা এর সমর্থনসূচক ছিল। এসব রায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পাশাপাশি তার নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি নিজে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানাভাবে সুবিধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাকে প্রধান বিচারপতি করা হয়েছিল কয়েকজন জ্যেষ্ঠ বিচারপতিকে ডিঙিয়ে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে ত্রাণ তহবিলের টাকা গ্রহণ করে নিজের চিকিৎসা করে সমালোচিত হয়েছিলেন। অবসর গ্রহণ করার কয়েকদিন আগে তিনি ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেন; যার ফলে দেশে রাজনৈতিক সংঘাতের পথ উন্মুক্ত হয়। নিজেরই দেওয়া সংক্ষিপ্ত আদেশ থেকে বিতর্কিতভাবে সরে এসে রায় দেন, যার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ভোট ডাকাতির চূড়ান্ত সুযোগ তৈরি হয়।

এসব ছাড়াও খায়রুল হক নানা কারণে আলোচিত ছিলেন। রাজনৈতিক একটি বিষয়কে আদালতের আওতাধীন করে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক নন বলে রায় দিয়েছিলেন তিনি। ওই রায় রাজনৈতিক শক্তিগুলোর একটি অংশকে যেমন খুশি করেছিল, অন্য অংশকে তেমনই ক্ষুব্ধ করেছিল। রাজনৈতিক বিষয়ে ওই রায়ের সঙ্গে তার প্রতি সরকারের বিশেষ সুদৃষ্টির সম্পর্ক নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন অস্বস্তিকর সন্দেহ ছিল। সেই সন্দেহ তিনি উসকে দেন অবসর গ্রহণের প্রায় দুই বছর পর আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ গ্রহণ করে। মূলত দেশের বিচার বিভাগের উচ্চাসনে বসে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করাই ছিল তার মূল কাজ।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ১৩ আগস্ট খায়রুল হক আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর একাধিক মামলা দায়েরের পর গা ঢাকা দেন। ১৮ আগস্ট ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য ইমরুল হাসান বাদী হয়ে ঢাকার আদালতে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd