মৌলভীবাজারের বড়লেখায় বিজিবি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক ১৪টি ভারতীয় মহিষের মধ্যে ৯টি মহিষ উধাও হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। দুই বিএনপি নেতার জিম্মায় থাকাকালীন এই মহিষগুলো গায়েব হয়ে যায়। শুক্রবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে যৌথ বাহিনী অভিযান চালিয়ে ৫টি মহিষ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও বাকি ৯টি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৪ আগস্ট উপজেলার গৌড়নগর এলাকার লুৎফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মহিষের একটি বড় চালান নিয়ে আসেন। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিজিবি নিশ্চিত হয় যে, লুৎফুর রহমানের বাড়িতে ১৪টি অবৈধ ভারতীয় মহিষ রয়েছে। পরদিন ১৫ আগস্ট বিজিবি ও পুলিশ সেখানে যৌথ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে লুৎফুর ও তার ভাই হিফজুর রহমান মহিষগুলোকে নিজেদের দাবি করে দুটি ক্রয় রশিদ প্রদর্শন করেন এবং অভিযানে বাধা সৃষ্টি করেন। মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্র অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সময়ের প্রয়োজন হওয়ায় স্থানীয় উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদ মহিষগুলো নিজেদের জিম্মায় নেন। তবে তারা মহিষগুলো নিজেদের কাছে না রেখে লুৎফুর রহমানের বাড়িতেই রেখে দেন।
পরবর্তীতে বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, লুৎফুরের প্রদর্শিত কাগজপত্র সম্পূর্ণ ভুয়া। শুক্রবার বিকেলে বিজিবি ও পুলিশ ওই মহিষগুলো জব্দ করতে লুৎফুরের বাড়িতে অভিযানে যায়। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায় ১৪টি মহিষের মধ্যে ৯টিই গায়েব। পরে বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি ডোবা থেকে মাত্র ৫টি মহিষ উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান সুজন জানান, চিহ্নিত চোরাকারবারি লুৎফুর রহমান ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে মালিকানা দাবি করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে সত্যতা না পাওয়ায় এবং কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় আমরা মহিষগুলো উদ্ধার করতে যাই। তবে জিম্মাদারদের উপস্থিতিতেই দেখা যায় ৯টি মহিষ নেই। ৫টি উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও জানান, সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।