জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, দ্বীনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রত্যেক দায়িত্বশীলকে আত্মগঠন ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। ইবাদত, নৈতিকতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজেদের মান উন্নত করতে হবে। একজন দায়িত্বশীলের ব্যক্তিগত চরিত্র, জ্ঞান ও আচরণই সংগঠনের পরিচয় বহন করে। তাই দায়িত্বের সকল পর্যায়ে যোগ্যতা ও আমানতদারিত্বকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। রবের সন্তুষ্টি ও জনগণের আস্থা অর্জনই হবে দায়িত্বশীলদের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, মানুষের আস্থা অর্জনই সাংগঠনিক কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। এজন্য দায়িত্বশীলদের নিয়মিত আত্মসমালোচনা করতে হবে এবং কর্মীদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখে তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেদের পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। জ্ঞান, চরিত্র ও দক্ষতার সমন্বয়ে যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে তুলতে পারলেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হবে।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরী মদীনামার্কেটস্থ একটি মিলনায়তন হলে সিলেট মহানগর জামায়াতের থানা মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত দুইদিন ব্যাপী শিক্ষাশিবিরের উদ্বোধনী দিনে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত শিক্ষাশিবিরে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও সিলেট জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।
শিক্ষাশিবিরে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- মহানগর নায়েবে আমীর হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব, জাহেদুর রহমান চৌধুরী ও মাওলানা ইসলাম উদ্দিন, জামায়াত নেতা অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিত প্রমূখ। শিক্ষাশিবিরে মহানগরীর সকল থানার সকল মজলিসে শুরা ও কর্মপরিষদের সদস্যগণ অংশ নেন।
আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দায়িত্বশীলদের আরও প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে যেন কোনোভাবেই সামাজিক বিভাজন বা সংঘাতে রূপ দেওয়া না হয়, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। গুজব, অপপ্রচার ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিহার করে আইন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জনগণের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করতে হবে। ক্ষমতাকে ভোগের বিষয় নয়, জনগণের সেবা ও জবাবদিহির আমানত হিসেবে দেখতে হবে। তাহলে ইহকালিন সাফল্য ও পরকালিন মুক্তির পথ প্রশ^স্ত হবে।