সিলেটে শাহজালাল জামেয়া নাজিরেরগাঁওয়ে শিক্ষকের বিদায়ী সংবর্ধনা
শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, নাজিরেরগাঁও শাখা, সিলেটের ইনচার্জ মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেছেন, শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর ও শিক্ষার্থীদের প্রেরণার বাতিঘর। মা-বাবার পাশাপাশি শিক্ষকরা কোমলমতি শিশু-কিশোরদের মনের মাধুরি মিশিয়ে গড়ে তুলেন। জ্ঞানার্জনে উদ্বুদ্ধ করেন। সঠিক গাইডলাইন দিয়ে থাকেন। আদর্শ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। শিক্ষার্থীদের কাছে তারা প্রেরণার বাতিঘর। স্নেহ মমতা ও আন্তরিক শাসনে তারা শিক্ষার্থীদেরকে এগিয়ে যেতে সহায়তা প্রদানে কখনো পিছপা হতে দেখা যায় না।
তিনি মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসা, নাজিরেরগাঁও শাখা, সিলেটের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মো: ওবায়দুল হকের বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। জামেয়ার তামাদ্দুনিক কমিটির আহবায়ক খোরশেদ আলম মহসিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত বিদায়ী শিক্ষক মো: ওবায়দুল হক। যিনি অতিসম্প্রতি উচ্চ শিক্ষার্থে জার্মান যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শিক্ষক মাওলানা হানীফ হোসাইন, সিদ্দিকুর রহমান, শেখ মো. ইউনুস আলী, তানভীর হোসাইন, আজিজুর রহমান, হাফিজ মেহেদী হাসান, মাওলানা আব্দুল খালিক, হাফিজ ইমরান আহমদ, মাওলানা আমীর হোসাইন, মাওলানা কায়েস আহমদ, মাওলানা হোসাইন আহমদ ও হাফিজ সাইদুজ্জামান।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন ছাত্র সংসদের ভিপি হাফিজ ফাহাদ আহমদ, জিএস আব্দুর রাজ্জাক সৈয়দ, এজিএস ফোয়াদ আল রাব্বি, সাহিত্য সম্পাদক জাহেদ উদ্দীন মাহদী, ছাত্রী সংসদের ভিপি রাফা আঞ্জুম, জিএস ফেরদৌসী জান্নাত নওশীন, এজিএস তাহসিন জান্নাত বুশরা এবং প্রচার ও পাঠাগার সম্পাদিকা তাওহিদা আক্তার।
শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিদায়ী শিক্ষকের হাতে ক্রেস্ট ও উপহার সামগ্রী তুলে দেয়া হয়। অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে মো: ওবায়দুল হক বলেন, ছাত্র জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথেই জামেয়ায় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। তিন বছরের অধিক সময় কাটিয়ে প্রিয় সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম মহব্বত পেয়েছি। অনুপ্রাণিত হয়েছি। তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করেন। বড় হওয়ার স্বপ্ন হৃদয়ে লালন করে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি। তিনি বাস্তবে অতুলনীয় আদর্শ রেখে গিয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারলে উপকৃত হবেন। শিক্ষকরা যদি কথা ও কাজে মডেল হতে পারেন, নি:সন্দেহে শিক্ষার্থীরা তা থেকে শিখবে। দ্বিধাহীনভাবে অগ্রসর হবে। মেধা ও যোগ্যতার বিকাশের পাশাপাশি নৈতিকতায় শীর্ষে থাকবে।