• বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
টেস্টের শেষ দিন শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ২৮৮ রান, ভারতের ৬ উইকেট জাতিকে দেওয়া ওয়াদা রক্ষা করতে না পারাই সরকারের প্রথম ছয় মাসের বড় ব্যর্থতা : মিয়া গোলাম পরওয়ার এসএমপির অভিযানে ২৪ ঘন্টায় গ্রেফতার ৫২ ৫ বছরে সর্বোচ্চ লোডশেডিং, নেতিবাচক প্রভাব পড়াশোনায় মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদের মধ্যে ভোট বৃহস্পতিবার সিলেটে ৫টি স্লিপার বাস সার্ভিসকে বড় জরিমানা গাম্বিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য-আইসিটি সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর ও শিক্ষার্থীদের প্রেরণার বাতিঘর -মাহমুদুর রহমান দিলাওয়ার জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির নতুন চার সদস্যের শ্রদ্ধা দেশে ফিরলেন লিবিয়ায় বন্দি থাকা ১৭৪ বাংলাদেশি মহাসড়কে কোনো থ্রি-হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক হলেন বদরুজ্জামান সেলিম কানাইঘাটে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নগদ টাকা জব্দ জনদুর্ভোগ নিরসনে লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও সুষম বণ্টনের দাবি সিলেট জামায়াতের ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবের নতুন নির্দেশনা হরমুজের রক্ষকরা আপনার পা ভেঙে দেবে : ট্রাম্পকে ইরানের সেনাপ্রধান গৃহবধূ থেকে যেভাবে অন্যতম নেতা হয়ে উঠেছিলেন খালেদা জিয়া সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার খুলে দিচ্ছেন সেবা, ভুয়া চিকিৎসককে বড় অংকের জরিমানা বর্ষাকালে কোন ফল ফ্রিজে রাখবেন, কোনটি বাইরে রাখবেন

৫ বছরে সর্বোচ্চ লোডশেডিং, নেতিবাচক প্রভাব পড়াশোনায়

Reporter Name / ৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬

12

চলতি বছরের শেষ শ্রাবণে এসে দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা গত ৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিদ্যুতের এই ভয়াবহ সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের লাখ লাখ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার টেবিলে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের লোডশেডিংয়ের প্রভাব ভয়াবহ। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে শুধু ঘরের ফ্যানই বন্ধ থাকে না, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষেও থাকে না স্বাভাবিক অবস্থা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্টের দেশে লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৭২২ মেগাওয়াট। ২০২৪ সালের একই দিনের তুলনায় দুই বছরের ব্যবধানে এই পরিমাণ প্রায় ১৮ গুণ বেশি। আর ২০২২ সালের ৫৫ মেগাওয়াটের সঙ্গে তুলনা করলে ৫ বছরের ব্যবধানে লোডশেডিং বেড়েছে প্রায় ৪৯ দশমিক ৫ গুণ। এই দুর্ভোগের কারণ খুঁজতে মিলেছে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র।

পিডিবি সারা দিনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদা বিবেচনায় একটি গড় লোডশেডিংয়ের হিসাব দেয়। অন্যদিকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ঘণ্টাভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহ, চাহিদা ও ঘাটতির তথ্য প্রকাশ করে। পিজিসিবির তথ্যেও নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতির বড় চিত্র উঠে এসেছে। গত ১০ আগস্ট রাত ১টা থেকে ২টার মধ্যে দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট।

চলতি ১৬ আগস্টের বিদ্যুৎ চাহিদার পূর্বাভাসেও ঘাটতির আশঙ্কা স্পষ্ট। পিজিসিবির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এদিন দিনের সর্বোচ্চ চাহিদা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ১৮০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যার সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭ হাজার ৮৫০ মেগাওয়াট। এর আগের দিন ১৫ আগস্ট প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ছিল ১৫ হাজার ৯১ মেগাওয়াট, বিপরীতে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ১৯০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার এই ব্যবধানের চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। তীব্র গরমের মধ্যে দিনের পর দিন লোডশেডিংয়ে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর পাশর্^বর্তী গাজিপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী গ্রামের বাসিন্দা জাওয়াদ সাদি। স্থানীয় বরমী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর কাছে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎ না থাকাটা এখন আর নতুন কিছু নয়। কারণ, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন আবার আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই পড়ার টেবিলে বসার সময় যেমন বিদ্যুতের অপেক্ষায় থাকতে হয়, তেমনি স্কুলের শ্রেণিকক্ষেও অপেক্ষা করতে হয় একটু স্বস্তির বাতাসের। ছোট সাদির অভিযোগ, দিন-রাতের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না। যার কারণে বাসায় ঠিকমতো পড়তে পারি না। আবার স্কুলেও অনেক গরম লাগে। ফ্যান বন্ধ থাকলে ঘেমে যাই, পড়ায়ও মনোযোগ থাকে না।

এই অভিজ্ঞতা শুধু সাদির একার নয়। আশপাশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন প্রায় একই চিত্র। দিনের তীব্র গরমে শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিশু-কিশোর শিক্ষার্থীদের মাথার ওপর ফ্যান থাকলেও বিদ্যুৎ না থাকায় তা অচল। গরম নিবারণে কেউ খাতা দিয়ে বাতাস করে, কেউ বারবার পানি পান করে, আবার কেউ অস্থির চোখে তাকিয়ে আছে বন্ধ ফ্যানের দিকে। এতে করে শিক্ষক পাঠদান চালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আটকে থাকে গরম আর বিদ্যুৎ আসার অপেক্ষায়। তাতে বিদ্যুতের মতো পড়াশোনাও রুটিনের বাইরে চলে যাচ্ছে।

শুধু দিনের ক্লাসেই নয়, রাতের লোডশেডিংও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় তৈরি করছে নতুন সংকট। স্থানীয় আরেকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ জানায়, রাতে পড়তে বসার সময় বিদ্যুৎ না থাকলে পড়াশোনা বন্ধ রাখতে হয়। বাড়িতে বিকল্প আলোর ব্যবস্থা থাকলেও তীব্র গরমে দীর্ঘসময় বই নিয়ে বসে থাকা সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে যোগ হয় ঘুমের ব্যাঘাত। ফলে পরদিন সকালে স্কুলে এসে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত লাগে। আহাদ বলেন , রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে ঘুমাতে কষ্ট হয়। পড়তেও পারি না। সকালে স্কুলে গেলে ঘুম ঘুম লাগে। ক্লাসে মনোযোগ দিতে তখন আরও কষ্ট হয়।

সাদি ও আহাদের এই অভিজ্ঞতা দেশের বিভিন্ন মফস্বল এবং গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য শিক্ষার্থীর বর্তমান বাস্তবতা। দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে, আর রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় নষ্ট হচ্ছে পড়াশোনা ও ঘুমের সময়। স্কুলের ক্লাস, বাড়ির কাজ, পরীক্ষার প্রস্তুতি কিংবা পরদিনের পড়া সবকিছুতেই তৈরি হচ্ছে ছন্দপতন। বিদ্যুৎ কখন থাকবে আর কখন থাকবে না তার অনিশ্চয়তায় অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়াশোনার একটি নির্দিষ্ট রুটিনও ধরে রাখতে পারছে না।

শিক্ষার্থীরা বলছে, দিনের বেলায় লোডশেডিং হলে ক্লাসে বসে থাকাই কষ্টকর হয়ে ওঠে। বিশেষ করে টানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকলে গরমে শরীর দুর্বল হয়ে আসে। তখন শিক্ষক কী পড়াচ্ছেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে অনেকের মনোযোগ চলে যায় কখন বিদ্যুৎ আসবে কিংবা কখন একটু বাতাস পাওয়া যাবে সেদিকে। ফলে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকলেও তারা কতটা পাঠ আত্মস্থ করতে পারছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
শিক্ষকদেরও একই অভিজ্ঞতা। তারা বলছেন, গরমের মধ্যে ফ্যান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষককে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক অস্বস্তির বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। এতে স্বাভাবিক পাঠদানও প্রায় ব্যাহত হয়।

একটি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষক আজিজুর রহমান বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই তীব্র গরম। এর মধ্যে শ্রেণিকক্ষে বিদ্যুৎ না থাকলে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিকভাবে ক্লাসে মনোযোগী রাখা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। ফ্যান বন্ধ থাকায় তারা ঘেমে যায়, অস্বস্তি বোধ করে। আমরা পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মনোযোগের বড় একটি অংশ তখন গরম ও বিদ্যুৎ আসার দিকে থাকে। বিশেষ করে ছোট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি প্রকট।
আরেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক বলেন, দিনের বেলায় লোডশেডিংয়ের কারণে ক্লাসে মনোযোগ কমার পাশাপাশি রাতের বিদ্যুৎ বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও ঘুমের ওপরও প্রভাব ফেলছে। অনেক শিক্ষার্থী রাতে পড়তে পারে না, আবার গরমে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না। ফলে পরদিন স্কুলে এসে তারা ক্লান্ত থাকে এবং পড়ায় মনোযোগ দিতে পারে না। এভাবে পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ও ফলাফলেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিং শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতির উপর প্রভাব ফেলছে।

এমন অবস্থায় অভিভাবকরাও রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। তারা বলছেন, সন্তানকে পড়তে বসালেও বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা করতে পারছে না। রাতে ঘুমাতে না পারায় সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় ক্লান্ত থাকে। লোডশেডিং শুধু শিক্ষার্থীদের বর্তমান পড়াশোনাকেই ব্যাহত করছে না, তাদের নিয়মিত জীবনযাপন ও পড়ার অভ্যাসেও প্রভাব ফেলছে।
এনামুল হক নামের এক অভিভাবক বলেন, পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দিনের বেশিরভাগ সময়ই বিদ্যুৎ থাকে না।

কখন বিদ্যুৎ আসবে, তারও কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। ফলে সন্তানদের পড়াশোনা নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় আছি। রাতে পড়তে পারে না, গরমে ঘুমাতেও পারে না। তিনি আরও বলেন, এখন এমন অবস্থা হয়েছে যে বিদ্যুৎ এলেও স্বস্তি নেই। কখন চলে যাবে সেই চিন্তা থাকে। আইপিএস থাকলেও ঠিকমতো চার্জ দেওয়ার সময় পাওয়া যায় না। সন্তানরা পড়তে বসলে বিদ্যুৎ চলে যায়, আবার রাতে ঘুমের সময়ও একই অবস্থা। এই সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd