• মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত তরুণের লাশ ৩৯ ঘণ্টা পর হস্তান্তর জৈন্তাপুরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহজাহান ‘অবাঞ্ছিত’ দক্ষিণ আমেরিকান ক্রিকেটে ইতিহাস গড়লো ব্রাজিল সিলেটে হাম-ডেঙ্গুর পর এবার করোনার হানা শহীদদের স্বপ্নের দেশ গড়তে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পুলিশের ৭ এডিসি ও এসি পদে রদবদল ফের সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে প্রাণ গেল ২ জনের ‘কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরার কারণে’ সিলেটে কমেছে পাসের হার: পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আপার পথে যারা হাঁটবেন, তাদেরও পালাতে হবে: জামায়াত আমির ৩১২ প্রতিষ্ঠানের সবাই ফেল হাদির খুনি ও হাসিনাকে দ্রুত ফেরত দেবে ভারত, আশা বাংলাদেশের যুক্তরাজ্যে তিন বছরে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ সিলেটে এসএসসিতে প্রায় অর্ধেকই ফেল সিলেট বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ায় এগিয়ে মেয়েরা কারিগরি বোর্ডে পাস ৫৮.২০ শতাংশ, জিপিএ ৩৯৫১ সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের ৬ শর্ত, যা আছে এতে ব্যভিচার থেকে বাঁচার ৩ দোয়া শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কোন শ্রেণির আত্মীয়, জানালেন আহমাদুল্লাহ রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম চূড়ান্ত

সিলেটে হাম-ডেঙ্গুর পর এবার করোনার হানা

Reporter Name / ৪ Time View
Update : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬

5

স্টাফ রিপোর্টার : সিলেটে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। দীর্ঘ ১৪ মাস পর সিলেটে একজনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১৮ জনের হাম শনাক্ত এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন ৯১ জন। একই সময়ে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে আরও চারজনের শরীরে। একসঙ্গে তিন সংক্রামক রোগের প্রকোপে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সিলেটে বাড়ছে উদ্বেগ।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মাহবুবুল আলম এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হামে একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শিশুর সাথে আছে তরুণীও: সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হাম ও হাম উপসর্গে মারা গেছেন আরও তিনজন। মৃতদের মধ্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় মৃত্যুবরণবারী ৩ বছর ৮ মাস বয়সী মো. এহসানুল হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ১৮ বছর বয়সী বর্ণা রানী দাস বানিয়াচং উপজেলার এবং শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ৮ মাস বয়সী আয়ান সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, ৭ আগস্ট সিলেট বিভাগে ২ শিশুর মৃত্যু হলেও ৮ আগস্ট কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। একদিন পর ৯ আগস্টের সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৫ জনে।

মৃত ১২৫ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম ছিল ছয়জনের। বাকি ১১৯ জন মারা গেছেন হাম উপসর্গ নিয়ে। জেলাভিত্তিক মৃতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে ৪৪, হবিগঞ্জে ১৬, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৮ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৯১ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯১ জন সন্দেহজনক হাম রোগী।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮২৯ জন। এর মধ্যে সিলেটে ২৯১, হবিগঞ্জে ১০৩, মৌলভীবাজারে ১০২ এবং সুনামগঞ্জে ৩৩৫ জন শনাক্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের শনাক্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা আক্রান্ত।

হাসপাতালে হাম রোগীর চাপ: বিভাগে হাম চিকিৎসার জন্য নির্ধারিত শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১০০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ১১২ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু এই হাসপাতালেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ২৫ জন।
এছাড়া ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১ জন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয়জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪১ জন, মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ২১ জনসহ বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে সন্দেহজনক হাম রোগীরা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
টিকা ক্যাম্পেইনের পরও থামছে না হাম: হামের সংক্রমণ ও মৃত্যু ঠেকাতে সিলেটে বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ব্যাপক টিকা কার্যক্রমের পরও কেন সংক্রমণ ও মৃত্যু নিয়ন্ত্রণে আসছে না। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকার পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে পৃথক চিকিৎসা, সংক্রমণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে অভিভাবকদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুও: হামের পাশাপাশি সিলেট বিভাগে ডেঙ্গুর সংক্রমণও অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চারজনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। নতুন শনাক্তদের মধ্যে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে একজন, লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ জনে। এর মধ্যে হবিগঞ্জে ৬২, সিলেটে ২৬, সুনামগঞ্জে ২৩ এবং মৌলভীবাজারে ১২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া বিভাগের বাইরের আরও তিনজন রোগী সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ১০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

১৪ মাস পর ফিরল করোনা: হামের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যেই সিলেটে ১৪ মাস পর নতুন করে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় স্বাস্থ্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। বিশ্বনাথ উপজেলার ৫৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি সিলেট ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে এনজিওগ্রামের আগে অ্যান্টিজেন টেস্টে তার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। পরে তাকে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে স্থানান্তর করে কেবিনে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।
শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালের আরএমও ডা. মিজানুর রহমান এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১৫ জুন সিলেটে দুজনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ ১৪ মাস কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি।
হাম রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালে করোনা রোগীকে আইসোলেশনে রাখায় স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, ১০০ শয্যার হাসপাতালটিতে এরই মধ্যে ধারণক্ষমতার বেশি হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। একসঙ্গে একাধিক সংক্রামক রোগের রোগীদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একসঙ্গে তিন রোগে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হাম-ডেঙ্গুর চলমান প্রকোপের মধ্যে ১৪ মাস পর করোনা শনাক্ত হওয়ায় সিলেটে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হাম সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার অব্যাহত থাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। এর মধ্যে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় হাসপাতালগুলোতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও রোগীদের পৃথক রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। জনসমাগম এড়িয়ে চলা, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজন অনুযায়ী মাস্ক ব্যবহার এবং বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ করে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর বা অন্য কোনো সংক্রমণের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাম, ডেঙ্গু ও করোনার মতো তিন ধরনের সংক্রামক রোগ একই সময়ে সক্রিয় হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো, রোগীদের পৃথক চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াকেই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, হাম, ডেঙ্গু ও করোনা তিনটাই সংক্রামক ভাইরাস। এ থেকে সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সচেতনতার বিকল্প নেই। উপসর্গ দেখা দিলে ডাক্তারের স্মরনাপন্ন হতে হবে। ডেঙ্গুর সংক্রমণ রোধে এডিস মশার প্রজনন কেন্দ্র ধ্বংস করতে হবে। বাসা-বাড়ীর আঙ্গিনা পরিস্কার রাখতে হবে এবং কোন অবস্থাতেই পানি জমে থাকতে দেয়া যাবেনা। সর্বোপরি উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই টেস্ট করাতে হবে।

সিলেটের ডেপুটী সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় শংকর দত্ত জানান, সিলেটে একজন করোনা রোগী শনাক্ত নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। তবে হামে মৃত্যুর বিষয়টি উদ্বেগজনক। বিশেষ করে প্রাপ্ত বয়স্কদের আক্রান্ত এবং মৃত্যুর বিষয়টি আরও উদ্বেগের বিষয়। হাম উপসর্গে যেসব শিশু মারা যাচ্ছে তাদের অনেকেই টিকা নেয়নি। টিকা ক্যাম্পেইন চলাকালে হয়তো স্বাস্থ্য বিভাগ তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি, নয়তো অভিভাবকরা টিকা দিতে আগ্রহ দেখায়নি। ডেঙ্গুর বিষয়টি নিয়ে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঠেকানো সম্ভব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd