সাধারণ এসি বাস হিসেবে সড়কে চলাচলের অনুমোদন নেওয়া হয়েছে, গড়ির চেসিস, ইঞ্জিন আর বডিও সাধারণ বাসের, অথচ অনুমোদন পাওয়ার পরই বানিয়ে দেওয়া হয়েছে ডাবল ডেকার স্লিপার বাস। এসবই অনুমোদনহীন স্লিপার বাসই ঝুঁকি বাড়াচ্ছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে।
শুক্রবার সকালে এই মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের সংঘর্ষে ৯ জনের প্রাণহানি ঘটে। এরমধ্যে বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি ছিলো ডাবল ডেকার স্লিপার বাস।
এই দুর্ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রনহীন বেঙ্গল বাসের কারণেই ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঝুঁকিপূর্ণভাবে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গেলে বেঙ্গল পরিবহনের বাস। এসময় সজোরে ধাক্কা দেয় বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে। সাথেসাথেই ইউনিকের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের ধানক্ষেতে গিয়ে পড়ে। এতে মারা যাওয়া সকলেই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী।
এই দুর্ঘটনার পরা আলোচনায় এসেছে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ডাবল ডেকার স্লিপার বাসের চলাচল নিয়ে। সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং পরিবহন সংশ্লিস্টদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, এই মহাসড়কে স্লিপার বাস চলাচলের অনুমোদন নেই। তবু কীভাবে চলছে এ সব স্লিপার বাস এ প্রশ্ন ওঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে বেঙ্গল ছাড়াও প্যারাডাইস পরিবহন নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানের স্লিপার বাস চলাচল করে।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক পলাশ বলেন, স্লিপার বাস বলে সড়কে যেগুলো চলাচল করে এগুলোর চেসিস ও বডি সাধারণ বাসের। ফলে জরুরী বা ঝুঁকিপূর্ণ মূহূর্তে এসব গাড়ি ভারসাম্য রাখতে পারে না। একারণে দুর্ঘটনা ঘটে।
শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার বাস ওয়ারটেক করতে গিয়ে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দেয়।
এ ভিডিও প্রসঙ্গে শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক বাসটির পেছনে একটি গাড়ির ড্যােবোর্ডের ক্যামেরা থেকে থেকে ভিডিওটি করা হয়। ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা গেছে দুর্ঘটনার সময় কোন গাড়ি কোন অবস্থানে ছিল।
তিনি বলেন বেঙ্গল পরিবহনের স্লিপার বাসটি নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় ছিল। বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসকে ধাক্কা দিলে রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে চলে দেয়। এ দুর্ঘটনায় নিহত সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন।
মহাসড়কে স্লিপার বাসের চলাচল প্রসঙ্গে বিআরটিএ সিলেট কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে স্লিপিং বাসের কোনো অনুমোদন নেই। মালিকপক্ষ প্রথমে সাধারণ এসি বাস হিসেবে নিবন্ধন ও ফিটনেস নেয়। পরে বাসের অভ্যন্তরীণ কাঠামো পরিবর্তন করে স্লিপার বাসে রূপান্তর করা হয়। কিন্তু পরিবর্তিত কাঠামোর জন্য নতুন করে কোনো অনুমোদন বা ফিটনেস পরীক্ষা হয় না।
তিনি বলেন, গাড়ির মূল নকশা পরিবর্তন করা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
এই কর্মকর্তা জানান, বেঙ্গল ও ইউনিক পরিবহনের বাসের অনুমোদন সিলেট থেকে নেওয়া হয়নি। সম্ভবত বিআরটিএ’র ঢাকা অফিস থেকে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার ইউনিকের বাসকে ধাক্কা দেওয়া বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি এসি স্লিপার বাস ছিলো বলে জানিয়েছেন সিলেট হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।
অনুমোদনহীন স্লিপার বাস চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, এসি স্লিপার বাস অবৈধ-এরকম কোন তথ্য বািনির্দেশনা বিআরটিএ আমাদের দেয়নি। যদি তারা চিঠি দিত, তাহলে আমরা ব্যবস্থা নিতাম।
তবে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল হক অভিযোগ করে বলেন, সরকারের সংশ্লিস্ট দফতরের কর্মকর্তারা আর্থিক সুবিধা দিয়ে সড়কে অবৈধ এসব স্লিপার বাস চলাচল করে। বিআরটিএ-পুলিশ সবার সামনেই এগুলো চলে। কিন্তু কেউ বাধা দেয় না।
তিনি বলেন, শুক্রবারের দুর্ঘটনার সম্পূর্ণ দোষ বেঙ্গল পরিবহনের। ভিডিওতেই তা দেখা গেছে।
এ ব্যাপারে বেঙ্গল পরিবহনের কারো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।