চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এরপর থেকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের বেড়েছে তৎপরতা। মেয়র পদে বিএনপির ৬ নেতা ও জামায়াতের ৩ জনের নাম আলোচিত হচ্ছে। মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বরত থাকলেও তাদের চোখ মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নে। নানা কৌশলে দুইদলের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে দলের কাজে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন।
সিসিক নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় যারা মাঠে রয়েছেন তারা হলেন- জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান মিফতাহ সিদ্দিকী, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সহসভাপতি ও সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিউক) চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী।
জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে আলোচিত হচ্ছে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম ও জেলা যুব ফেডারেশনের সভাপতি মাওলানা লোকমান আহমদেও নাম। এর মধ্যে মাওলানা হাবিবুর রহমান গেল জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ (সিটি ও সদর উপজেলা) আসন থেকে জামায়াতের প্রার্থী ছিলেন। সিসিকের মেয়র পদে বিএনপির ৬ মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে তিনজনই সরকারি তিন প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দফতরে থাকলেও তাদের মুল টার্গেট সিটি নির্বাচন। কাইয়ূম চৌধুরী সিসিকের প্রশাসক হিসেবে পুরো নগরী চষে বেড়াচ্ছেন। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে তিনি দিনের বেশিরভাগ সময়ই মাঠে সময় দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে বর্ধিত সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও ড্রেন প্রশস্তকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের মধ্য দিয়ে তিনি বেশ প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দুইবছর দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। দলীয় কর্মসূচি নিয়ে তিনি নগরবাসীর কাছে ছুটেছেন।
মিফতাহ সিদ্দিকী বিগত ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে রাজপথের সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে নেতাকর্মীদের কাছে পরিচিত। ওয়াসার চেয়ারম্যান হলেও তার মুল টার্গেট সিটি নির্বাচন।
ইমদাদ হোসেন চৌধুরী মেয়র প্রার্থী হওয়ার অভিপ্রায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি ছাড়াও বিভিন্ন সংকটে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নগরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।
দুইবছর দূরে থাকার পর সম্প্রতি মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ফিরেছেন নাসিম হোসাইন। তাঁর ‘কামব্যাক’ নিয়ে অনেকে সিটি নির্বাচনের হিসেব মিলাচ্ছেন।
ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীও মাঠে রয়েছেন। পূর্ব সিলেটের মধ্যে একমাত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী তিনি।
এদিকে, জামায়াতের কোন নেতা সরাসরি সিটি নির্বাচন নিয়ে মাঠে না থাকলেও সম্ভাব্য প্রার্থীরা রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা ইস্যূ নিয়ে জনসাধারণের কাছে যাচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমীর ফখরুল ইসলাম জানান, সিটি নির্বাচনের জন্য জামায়াতের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই মেয়র প্রার্থীর নাম দল থেকে ঘোষণা করা হবে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি ও সিউকের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, তিনি ২০ বছর সিসিকের কাউন্সিলর ছিলেন। নগরবাসীর সাথে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচনের জন্য তার পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। দল তাকে প্রার্থী হিসেবে বেছে নিলে নগরবাসীও তাকে হতাশ করবেন না বলে তাঁর বিশ্বাস।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়ে মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। তার নির্দেশেই তিনি মাঠে কাজ করছেন। নগরের উন্নয়নে অনেকগুলো বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে তিনি দলীয় মনোনয়নে মেয়র হতে পারলে এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট নগরের চিত্র পাল্টে দিতে পারবেন। বর্তমানে প্রশাসক হিসেবে নগরের উন্নয়নমূলক কাজ করতে গিয়েও নগরবাসীর কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগিতা পাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।