পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক না’
Reporter Name
/ ১২২
Time View
Update :
মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২৬
Share
পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি, আমি সাংবাদিক না’
জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’— সাধারণ এক দোকানিকে করা এমন এক প্রশ্নেই রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম (৩০)।নেট দুনিয়ায় তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। তার এই সহজ সরল উপস্থাপনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনো দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজের ফাঁকে শখের বশে তৈরি করেন বিনোদনমূলক ভিডিও। গত ২৬ মার্চ...
185
জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে? সাদাডা কত, লালডা কত? যদি জনগণকে বলতেন, তাহলে অনেক খুশি হইতাম’— সাধারণ এক দোকানিকে করা এমন এক প্রশ্নেই রাতারাতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছেন কুড়িগ্রামের তরুণ তাইজুল ইসলাম (৩০)।নেট দুনিয়ায় তিনি এখন ‘তাজু ভাই ২.০’ নামেই পরিচিত। তার এই সহজ সরল উপস্থাপনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের উত্তর ঢাকডহর সরকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা তাইজুল ইসলাম। চরম অভাব-অনটনের কারণে কোনো দিন স্কুলের বারান্দায় পা রাখা হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন রাজমিস্ত্রির সহকারী (হেলপার)। ঢাকার বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনে কাজের ফাঁকে শখের বশে তৈরি করেন বিনোদনমূলক ভিডিও।
গত ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় নারায়ণপুর বাজারে জিলাপি বিক্রির একটি ভিডিও করেন তিনি। ভিডিওতে তিনি গ্রাম্য ভাষায় দোকানির কাছে জানতে চান, জিলাপি ‘সরকারি রেটে’ বিক্রি হচ্ছে কি না। তার এই প্রশ্ন করার ঢং এবং সহজ-সরল ভঙ্গি মুহূর্তেই লুফে নেয় নেটিজেনরা। ভিডিওটি এরই মধ্যে প্রায় ৫৫ লাখ মানুষ দেখেছেন। ভাইরাল হওয়ার আগে তার পেজের ফলোয়ার ছিল মাত্র ৬ হাজার, যা বর্তমানে ৯০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।
তাজু ভাইয়ের এই ভিডিও নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ তার সারল্যের প্রশংসা করলেও, অনেকে আবার ট্রল বা ব্যঙ্গ করছেন।
এ প্রসঙ্গে তাইজুল ইসলাম বলেন, আমার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবারের দুঃখ-কষ্ট ভুলতেই আমি ভিডিও করি। আমি পেশাদার সাংবাদিক না, তবে আমাদের চরাঞ্চলের খবর কেউ করে না বলে আমি নিজেই ভিডিও করি। আমি বোকাসোকা মানুষ, ভুল হতেই পারে। আমাকে নিয়ে ট্রল করলেও আমার কষ্ট নেই। আমি শুধু চাই আমাদের চরের মানুষের উন্নয়ন হোক।
নারায়ণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই ছেলের বাড়ি আমার পরিষদের সামনেই। রাজমিস্ত্রির কাজ করে সে যে ভিডিওর মাধ্যমে এভাবে দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে, তা জেনে ভালো লাগছে।
ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তাইজুল এখন স্বপ্ন দেখছেন তার এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পরিবারের অভাব দূর করার এবং অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের কথা তুলে ধরার।