গত ঈদুল ফিতরেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়। এবারও সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে বলে জানিয়েছেন শ্রম এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি, রেঞ্জ ডিআইজির সঙ্গেও কথা বলব, সিলেটের সব কটি পর্যটন কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া হবে।
সোমবার সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
সিলেটে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিদেশের ভিসা নিশ্চিত প্রাপ্তির নামে প্রতারণার বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমরা ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অ্যাকশনে গিয়েছি। গত কিছুদিন আগে প্রতারণায় পড়া দুজন লোককে আমরা ইরাক থেকে নিয়ে এসেছি এবং প্রতারককে জেলে দিয়েছি। আগামীতেও কোনো প্রতারক হাতছাড়া হবে না।
এর আগে অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অনেকগুলো পদক্ষেপ রয়েছে।
প্রত্যেকটা শ্রমিক গত ঈদের ন্যায় এবারও তাদের ন্যায্য পাওনা নিয়ে হাসিমুখে ফিরবে। এ পর্যন্ত আমরা ৩৪ হাজার ২৪০ জনকে আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছি। ৩১৯ জনকে শিক্ষা খাতে ২ কোটি ২৮ লাখ ৫৫ হাজার দেওয়া হয়েছে। নিহত ৯৮ জনকে ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং চিকিৎসা খাতে ৩ হাজার ৯৯৯ জনকে ১৭ কোটি ৫৪ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। মোট ৪ হাজার ৪৯৬ জনকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছি। এসব খাতে ১৯ কোটি ৯৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা দিয়েছি। কাজেই আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের শ্রমিকরা শিক্ষা, চিকিৎসা ক্ষেত্রে ভালো থাকেন। তাছাড়া বজ্রপাতে মারা যাওয়াদেরও সহযোগিতার আওতায় আনা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুকালে ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। কর্মক্ষেত্রে মৃত্যু হলে ২ লাখ টাকা, চিকিৎসা সহায়তায় ১ লাখ, শ্রমিকদের মেধাবী সন্তানদের এক লাখ টাকা দেওয়া হয়। প্রয়োজনে শিক্ষাক্ষেত্রে তিনবার দেব। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের অনেকে জানেন না এই মন্ত্রণালয় থেকে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। তাদের জানানোর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে অবহিত করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শ্রমিক ও তাদের সন্তানদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অফিস গতকাল বন্ধ হলেও তিনি (প্রধানমন্ত্রী) আজও অফিস করছেন। আমরা মন্ত্রীরাও কর্মব্যস্ত রয়েছি। শ্রমিকরা গত ১৭ বছর তাদের ন্যায্য পাওনার জন্য রাজপথে আন্দোলন করেছে। বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে, যাতে শ্রমিকরা যেন তাদের পরিশ্রমের টাকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয়। এ দেশের সাড়ে ৮ কোটি শ্রমিক রয়েছেন। কেবল তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিলে হবে না। তাদের ন্যায়বিচার দিতে জেলা প্রশাসককে নির্দেশনা দেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের ৩৩তম পরিচালনা বোর্ড সভায় অনুমোদিত অসুস্থ ও দুর্ঘটনায় আহত-নিহত শ্রমিক ও তাদের পরিবারে সারা দেশে এ যাবৎ ১৩ লাখ ৫২টি চেক দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিলেট জেলায় ১৪৭টি, সুনামগঞ্জে ৫৪টি চেকে ৬৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়।