সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে হামলা, হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের সমঝোতা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংঘাতের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি; বরং শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকেই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ছাত্রাবাসের একটি ব্লকে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থী তিনজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে হোস্টেল সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের নিয়ে বৈঠক করা হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর তাদের মধ্যে থাকা বিরোধের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। পরে বিষয়টির সমঝোতা লিখিতভাবে নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক শাহজাহান কবীর বলেন, ‘আমরা উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে নিশ্চিত হয়েছি যে দুই পক্ষেরই কিছুটা ভুল ছিল। হোস্টেল ব্লকে বসে বিষয়টির মীমাংসা করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এ নিয়ে আর কোনো সমস্যা হবে না।’
ঘটনাটির সঙ্গে ছাত্রসংগঠন শিবিরের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, রাজনৈতিক প্রভাব কিংবা কোনো সংগঠনের নির্দেশে ঘটনাটি ঘটেছে—এমন কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাও বিষয়টিকে তাদের ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কলেজ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝি থেকেই বিরোধের সূত্রপাত এবং আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার ছাত্রাবাসের এক শিক্ষার্থী হয়রানি, অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন পরীক্ষা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ এনে এক কলেজ শিবিরকর্মীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন।