অনলাইন রিপোর্টার
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সাংবাদিক মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহকে চেক ডিজঅনারের মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পাবনা-২ আসনে এনসিপির ‘হ্যাঁ’ ভোটের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে প্রচারণায় ছিলেন। শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রাম থেকে তাকে কামালপুর ফাঁড়ি পুলিশ গ্রেফতার করে সুজানগর থানায় হস্তান্তর করে। পরে থানার পুলিশ ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে।
মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ হাটখালী ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের আকমল শিকদারের ছেলে। তিনি এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ও প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মিডিয়া বিষয়ক উপকমিটিরও দায়িত্বে ছিলেন। সাংবাদিকতাও করছেন, দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৪ সালে জামালপুর জেলার এক ব্যক্তির চেক ডিজঅনারের মামলায় তিনি এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ডে আসামি ছিলেন। নির্বাচনের সময় গণভোটের অ্যাম্বাসেডর হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নির্বাচন শেষে বাড়িতে অবস্থান করছিলেন, তবে শুক্রবার গভীর রাতে কামালপুর ফাঁড়ির পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।
আসাদুল্লাহর পরিবার অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পরদিন রাতে স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদের বাসায় গিয়ে আসাদ ও তার বাবার গায়ে রং মাখিয়ে দেন। প্রতিবাদ করলে তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। এ পরিস্থিতিতে পুরোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
আসাদুল্লাহর স্ত্রী নাঈমা আক্তার রিমা বলেন, “শুক্রবার গভীর রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা আমাদের জন্য বিস্ময়ের। এটি পারিবারিক ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক একটি মামলা। আমরা দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”
সুজানগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মজিবর রহমান জানান, ২০২৪ সালের অর্থঋণ সম্পর্কিত মামলায় আসাদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি ওই মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী উত্তাপের কারণে গ্রেফতারের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। আইন অনুসারে পুলিশের কাছে গ্রেফতারের পূর্ণ অধিকার থাকলেও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী এটি হয়রানিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে।