সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর
Reporter Name
/ ৭
Time View
Update :
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬
Share
সরকারের ৬ মাস: রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদলের ইতিবাচক চেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর
৬ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন বোধহয় এটাই। জনদুর্ভোগকে আমলে নিয়ে খোদ সরকারপ্রধান দুঃখপ্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এমন সংস্কৃতি বদলের চেষ্টাকে সব মহল ইতিবাচকভাবে যেমন দেখছে, তেমনি তার কেবিনেটের অন্য সদস্যদের পরিবর্তনের হাওয়া গায়ে না লাগানোরও অভিযোগ উঠেছে।কেমন ছিল বিএনপির প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণের ১৮০ দিন? প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান কি আকাশ-জমিন, নাকি প্রচেষ্টার পারদ ভারী? এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকার তার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং জনগণের প্রতি প্রাধান্য রেখে, গণমানুষের ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। একটা ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষে আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও যতটুকু...
11
৬ মাস বয়সী বিএনপি সরকারের ইতিবাচক পরিবর্তন বোধহয় এটাই। জনদুর্ভোগকে আমলে নিয়ে খোদ সরকারপ্রধান দুঃখপ্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এমন সংস্কৃতি বদলের চেষ্টাকে সব মহল ইতিবাচকভাবে যেমন দেখছে, তেমনি তার কেবিনেটের অন্য সদস্যদের পরিবর্তনের হাওয়া গায়ে না লাগানোরও অভিযোগ উঠেছে।কেমন ছিল বিএনপির প্রাথমিক লক্ষ্য পূরণের ১৮০ দিন? প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান কি আকাশ-জমিন, নাকি প্রচেষ্টার পারদ ভারী?
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘সরকার তার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং জনগণের প্রতি প্রাধান্য রেখে, গণমানুষের ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনায় সামনের দিকে এগিয়ে চলেছে। একটা ভেঙে পড়া রাষ্ট্রকাঠামোর সামনে দাঁড়িয়ে সরকারের পক্ষে আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তারপরও যতটুকু করা সম্ভব, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি ততটুকুই করতে। সম্ভব হলে আরও একটু বেশি করতে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে।’
তারেক রহমানের কেবিনেটের দায়িত্বপ্রাপ্তরা বলছেন, সরকার ১৮০ দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। উদাহরণ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খননের মতো কর্মসূচি সামনে আনছেন।
প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করছেন প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘গত কয়েক দিনে আমার মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটা রিভিউ মিটিং হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রেজেন্টেশন গেছে। কী করা হয়েছে, কী করা হয়নি এবং এটা শুধু আমার মন্ত্রণালয় নয়, প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয় থেকেই করা হচ্ছে। সো, এখানেও পরিষ্কার যে, প্রধানমন্ত্রী পর্যালোচনা করছেন, ফুল রিভিউ নিচ্ছেন, স্কোরবোর্ড দেখছেন।’
এদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘প্রথম ছয় মাসে আমরা নির্ধারণ করেছিলাম যে আমাদের কর্মপরিকল্পনা এবং প্রকল্পগুলো কী অগ্রাধিকার পাবে, সেটা চিহ্নিত করতে পেরেছি। যারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকলে প্রকল্পটা স্বচ্ছতার সঙ্গে হয়, অর্থনীতির ব্যয়টা যাতে ন্যায্য হয় এবং সুফলটা যাতে জনগণ পায়, সেটা বিবেচনা করেই প্রকল্প হচ্ছে।’
৬ মাসে সামাজিক সুরক্ষায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করার পাশাপাশি, জ্বালানি সংকট নিয়ে জনগণকে ধোঁয়াশায় রাখা হয়েছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের। সংকট উত্তরণে খোলামেলা আলোচনার আহ্বান জানিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. সাব্বীর আহম্মেদ বলেন, ‘এক ধরনের সৎ ইচ্ছার প্রকাশ তিনি দেখিয়েছেন। গভর্নমেন্টের উচিত তার নীতিগত বিষয়ে পার্লামেন্টে খোলামেলা আলোচনা করা। খোলামেলা আলোচনা করলে এটা কোনো প্রবলেম তৈরি করবে না, বরং গভর্নমেন্টের প্রতি মানুষের সিম্প্যাথি।’
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো এখানে মন খুলে আলোচনা, সমালোচনার পথ খোলা। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে যেহেতু সে সুযোগ আরও উন্মুক্ত, সেহেতু ৬ মাসে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া বিষয়গুলো নিয়ে সংসদে পর্যালোচনা ও সমাধানের পথ খোঁজার আহ্বান রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।