সিলেট নগরীতে পুলিশ ও ছাত্রলীগ হামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ক সহ অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে সিলেট নগরের জিন্দাবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তাদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুরুতর আহতরা হলেন- সিলেটের এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ফয়জুল বারী দিনার ও নাইম নামের একই কলেজের একজন শিক্ষাথী।
জানা যায় যে, পূর্ব ঘোষিত লাগাতার কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশের ন্যায় নগরীর কোর্ট পয়েন্টে এক দফা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি আদায়ের লক্ষে সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করেন। কিন্তু শুরু থেকেই পুলিশ ও সরকারদলীয় সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়ে যায়। ফলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়ে জিন্দাবাজারে অবস্থান নেয়। সে সময় আনুমানিক ২ ঘটিকার দিকে পুনরায় পুলিশ, ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের সাথে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পেছন থেকে ছাত্রলীগের সিলেট জেলা সভাপতি নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ যুবলীগের নেতাকর্মীরা আধুনিক ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা করে। এতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সিলেট জেলার অন্যতম সমন্বয়ক এম.সি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষার্থী ছাত্রনেতা ফয়জুল বারী দিনার সহ আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত হয়েছেন ফয়জুল বারী দিনার ও একই কলেজের নাইম নামের একজন শিক্ষার্থী।
এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জিন্দাবাজার পয়েন্টে অবস্থানকালে বেশ কয়েকবার পুলিশ ও ছাত্ররলীগের নেতাকর্মীদের সাথে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এক পর্যায়ে পেছন থেকে ছাত্রলীগের সিলেট জেলা সভাপতি নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ব্যাপক হামলা চালালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মাধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীদের নেতাকর্মীরা মৃত ভেবে ফেলে গেলে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে উদ্ধার করে নগরীর ইবনে সিনা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান, সেখানে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ ইউসুফ জামিল জানান, গুরুতর আহত ওই ২ রোগীর অবস্থা খুবই গুরুতর। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাদের প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তবে তারা এখন কিছুটা আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে তাদের চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
এ ঘটনার কথা জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন জানান, নগরীর বন্দর বাজার ও জিন্দাবাজার এলাকায় একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ-মিছিল করলে তাদের সাছে ছাত্রলীগের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।