সিলেটে ভুল চিকিৎসায় মৃত মাওলানা শফিকুর রহমানের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় গোলাপগঞ্জ চৌঘরি মাঠে তার জানাজা সম্পন্ন হয়। পরে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর এক স্বজন।
জানা যায়, রবিবার (৩১ আগস্ট) রাতে নগরীর মির্জাজাঙ্গালের সেইফওয়ে হাসপাতালে মূত্রথলির পাথর অপারেশনের পর রাত সাড়ে ৮টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন মাওলানা শফিকুর রহমান (৭৫)। তার অপারেশনের দায়িত্বে ছিলেন প্রফেসর ডা. মো. আব্দুল মনাফ। শফিকুর রহমানের মৃত্যুর পরপরই তিনি হাসপাপতাল ছেড়ে পালিয়ে যান।
শফিকুরের স্বজনরা হাসপাতালে জড়ো হয়ে ডা. মনাফ ও হাসপাতালের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের খুঁজতে থাকলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে কোতোয়ালী মডেল থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
এদিকে, এ ঘটনার পরপরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মনাফের কর্তব্যে অবহেলার জন্য রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে স্বীকার করেছে। তারা তাদের নিজস্ব প্যাডে ভুল চিকিৎসার জন্য শফিকুরের মৃত্যু হয়েছে বলে একটি স্বীকারোক্তিমূলক পত্র রোগীর স্বজনদের দিয়ে জানিয়েছেন যে, এই পত্রটি তারা পুলিশকেও দিবেন। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ডাক্তার মনাফকে ভবিষ্যতে এই হাসপাতালে চিকিৎসা ও চেম্বার করার সুযোগ দেওয়া হবেনা।
পত্রটিতে স্বাক্ষর করেছেন সেইফওয়ে হসপিটালের ইনচার্জ (এডমিন ও মার্কেটিং) নিয়াজ বিন আজহার।
তবে সোমবার আলাপকালে তিনি জানান, তারা পুলিশকে তেমন কিছু জানান নি বা লিখিত কোনো অভিযোগও দেন নি। আর ডাক্তার মনাফকে চিকিৎসা দেওয়ার সুযোগ বা তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ সেইফওয়ের পক্ষে দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়ে ফোন কেটে দেন।
এদিকে মৃত শফিকুর রহমানের স্বজন ও সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারি ভূমি কর্মকর্তা সাব্বির আহমদ জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়াই সোমবার দুপুর ২টায় গোলাপগঞ্জের চৌঘরী মাঠে তার জানাজা শেষে পরিবারিক গোরস্তানে দাফন সম্পন্ন হয়ে
তারা এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।