শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পারেন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিটি হত্যার বিচার হবে। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আয়োজনে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন রিজভী। শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘উনি নাকি চলে আসবেন ডিসেম্বরে। তাহলে আবু সাঈদদের শহীদ করলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে গুলি করালেন, এই অপরাধ, এই পাপ, এই হত্যার কি বিচার হবে না? মাঝে মাঝে আওয়াজ দিচ্ছেন, হিন্দুস্তান থেকে নেমে পড়বেন? কোথায় নামবেন? প্যারাশুটে নামবেন, না হেলিকপ্টারে? ঢাকায় নামবেন, না গোপালগঞ্জে? একটু বলে দিন?’
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, ১৭ বছরের শাসনের পর জনগণকে আবারও জেগে উঠতে হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে রাষ্ট্রের চরিত্র হয়ে উঠেছিল গুম, খুন ও গুপ্তহত্যা। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গুম ও হত্যা করা হয়েছে এবং তরুণ ও শ্রমিকদের ক্রসফায়ারে দেওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, ছাত্র, তরুণ, শ্রমিক, রিকশাচালকসহ সাধারণ মানুষ নিজেদের রক্তের বিনিময়ে শেখ হাসিনার পতন ঘটিয়েছেন। তাঁর দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পেছনে ৭ নভেম্বরের প্রেরণা ছিল। ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সাল এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মানুষ একইভাবে জেগে উঠেছিল।
তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রত্যেকেই ৭ নভেম্বরের চেতনা নিয়ে সতর্ক রয়েছেন। এ দেশকে কারও সেবাদাস হতে দেওয়া যাবে না।.
বিএনপির রাজনীতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বিএনপির রাজনীতি সহজ-সরল পথের রাজনীতি, সিরাতুল মুস্তাকিমের রাজনীতি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়া তাঁদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেননি। তবে তাঁর অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক দল ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও কথায় কথায় প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে।