রিংকু দেবনাথ
মাধবপুর (হবিগঞ্জ)প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মীর খোরশেদ আলমসহ ১৩ জনকে ডাকযোগে কাফনের কাপড় পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে একটি বড় পার্সেল পৌঁছায়। পার্সেলটি খোলার পর এর ভেতরে কাফনের কাপড় ও একটি বেনামি চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে মীর খোরশেদ আলমকে উদ্দেশ করে হুমকিমূলক বক্তব্য লেখা ছিল। চিঠিতে বলা হয়, ‘এই চিঠি পাওয়ার পর তোর জীবনে যা আছে করার করে নে। এরপর মাত্র কয়েকদিন বেঁচে থাকবি। আগুন নিয়ে খেলার পরিণাম বুঝবি।’ এ ছাড়া চিঠিতে আনোয়ার হোসেন, মাহমুদ হোসেন, মিসির আলী, আব্দুল গফুর, মিজান কন্ডাক্টর, বজলু, সৈয়দ শিব্বির, আনাস, তালহা, তানজিল ও নোমানসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তাদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, চিঠিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার নাম উল্লেখ করে তাদের চেয়ারম্যান পদে বসানোর কথাও লেখা হয়েছে। এ ঘটনায় হুমকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে মীর খোরশেদ আলম বলেন, ‘আমি জেনে-শুনে কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে তিনি সরাসরি আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। আমাকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলেও আমি কখনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি।’
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তিনি মাধবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। পাশাপাশি বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারকে অবহিত করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, মীর খোরশেদ আলম মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও আদাঐর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের উন্নয়ন কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।