হজ-ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ বিধান তাওয়াফ। তাওয়াফ হলো পবিত্র কাবাঘর সাতবার প্রদক্ষিণ করা। তাওয়াফ করার আগে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করে দিতে হবে।
তাওয়াফের জন্য নিয়ত করা জরুরি। নিয়ত ছাড়া কাবাঘরের চারপাশে ঘুরলে তাওয়াফ হবে না। তাওয়াফের নিয়ত এভাবে করতে হবে—হে আল্লাহ, আমি তোমার সন্তুষ্টির জন্য তাওয়াফের ইচ্ছা করছি, তা আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল করো। অন্তরে এই নিয়ত করা ফরজ এবং মুখে উচ্চারণ করা উত্তম।
হজ বা ওমরাহ আদায়কারী প্রথমে মসজিদুল হারামে ডান দিয়ে প্রবেশ করে মসজিদে প্রবেশের দোয়া পড়বেন। এরপর তাওয়াফ শুরুর জন্য হাজরে আসওয়াদের দিকে এগিয়ে যাবেন। ডান হাত দিয়ে হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ করবেন এবং চুমু খাবেন। হাজরে আসওয়াদে চুমু খাওয়া সম্ভব না হলে হাত দিয়ে স্পর্শ করে হাতে চুমু খেতে হবে। হাত দিয়ে স্পর্শ করা সম্ভব না হলে হাজরে আসওয়াদের দিকে মুখ করে হাত দিয়ে ইশারা করুন। এ সময় তাকবির বলুন। কিন্তু হাতে চুমু খাওয়া যাবে না।
এরপর ডান দিক ধরে চলতে থাকবেন। বায়তুল্লাহ বা কাবাঘরকে বাঁ দিকে রাখবেন। যখন রুকনে ইয়ামেনিতে (হাজরে আসওয়াদের পর তৃতীয় কর্নার) পৌঁছাবেন, তখন সেই কর্নার শুধু স্পর্শ করবেন। স্পর্শ করা সম্ভব না হলে তাওয়াফ চালিয়ে যাবেন। ভিড় করা যাবে না।
এরপর হাজরে আসওয়াদের দিকে অগ্রসর হতে হতে এ দোয়া পড়বেন—
উচ্চারণ: রাব্বানা আতিনা ফিদ দুন-ইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া কিনা আজাবান নার।
অর্থ: হে আমাদের রব, দুনিয়ায় আমাদের কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন। জাহান্নামের আজাব থেকে আমাদের রক্ষা করুন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২০১)
হাজরে আসওয়াদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় হাজরে আসওয়াদ অভিমুখী হয়ে তাকবির বলবেন। তাওয়াফ করার সময় জিকির, দোয়া ও কোরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। এ ছাড়া নিজ ভাষায় আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে নিজের মনের কথা বলুন। প্রিয়জনদের জন্য দোয়া করুন।
ইজতেবা ও রমলের নিয়ম
নারী-পুরুষের তাওয়াফের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য আছে। তাওয়াফের মধ্যে পুরুষদের দুটি কাজ করতে হয়—
এক. তাওয়াফের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইজতেবা করা। ইজতেবা হলো ডান কাঁধ খালি রেখে চাদরের মাঝের অংশ বগলের নিচে দিয়ে এনে চাদরের পাশ বাঁ কাঁধের ওপর ফেলে দেওয়া। তাওয়াফ শেষে চাদর আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে হবে।
দুই. তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে রমল করা। ছোট ছোট পদক্ষেপে দ্রুত হাঁটা হলো রমল। বাকি চার চক্করে রমল না থাকায় স্বাভাবিক গতিতে হাঁটতে হবে। নারীদের রমল করতে হয় না।
নারীদের জন্য কর্তব্য হলো, তাওয়াফের সময় পর্দার প্রতি খেয়াল রাখা। কিছুতেই পুরুষের ভিড়ে ঢুকে তাওয়াফ করা যাবে না।
তাওয়াফ শেষে মাকামে ইবরাহিমের পেছনে এসে দুই রাকাত নামাজ আদায় করুন। ভিড়ের কারণে এখানে জায়গা না পেলে মসজিদে হারামের যে কোনো অংশে এ নামাজ আদায় করা যাবে। যে পথে মুসল্লিরা যাতায়াত করে, সে পথে দাঁড়াবেন না।
এরপর জমজমের পানি পান করতে যাওয়া মুস্তাহাব। পান শেষে জমজমের কিছু পানি মাথার ওপর ঢেলে দেওয়া সুন্নত।