ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই খাবারের তালিকা নিয়ে শুরু হয় নানা হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে মাটির নিচে জন্মানো সবজি দেখলেই অনেকের ধারণা, এগুলো খেলে বুঝি রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে। তাই আলু, কচু, ওল, গাজর, বিট কিংবা শালগমের মতো সবজি অনেকেই খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেন। কিন্তু ডায়াবেটিস হলেই কি মাটির নিচের সবজি পুরোপুরি নিষেধ? ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ এসব সবজি শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কোন সবজি কতটা এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। মাটির নিচের কোন সবজি খেতে পারবেন, আর কোনটিতে রাখতে হবে সতর্কতা, তা জানিয়েছেন চিকিৎসক এসএ মল্লিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য...
13
ডায়াবেটিস ধরা পড়লেই খাবারের তালিকা নিয়ে শুরু হয় নানা হিসাব-নিকাশ। বিশেষ করে মাটির নিচে জন্মানো সবজি দেখলেই অনেকের ধারণা, এগুলো খেলে বুঝি রক্তে শর্করা বেড়ে যাবে। তাই আলু, কচু, ওল, গাজর, বিট কিংবা শালগমের মতো সবজি অনেকেই খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেন। কিন্তু ডায়াবেটিস হলেই কি মাটির নিচের সবজি পুরোপুরি নিষেধ?
ভিটামিন, খনিজ, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে সমৃদ্ধ এসব সবজি শরীরের জন্য নানা দিক থেকে উপকারী। তবে ডায়াবেটিস থাকলে কোন সবজি কতটা এবং কীভাবে খাওয়া হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। মাটির নিচের কোন সবজি খেতে পারবেন, আর কোনটিতে রাখতে হবে সতর্কতা, তা জানিয়েছেন চিকিৎসক এসএ মল্লিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
আলু
ডায়াবেটিস থাকলেই আলু একেবারে বাদ দিতে হবে, এমন নয়। তবে পরিমাণের দিকে খেয়াল রাখা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ, আলু খেলে সম্ভব হলে খোসাসহ খাওয়া ভালো। একই রান্নায় বেশি আলু না দিয়ে অল্প পরিমাণে রাখা যেতে পারে। আলুর সঙ্গে অন্যান্য সবজি মিশিয়ে খাওয়ার পাশাপাশি আলু খাওয়ার দিন ভাতের পরিমাণ কমিয়ে প্লেটে প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
কচু
কচুতে রয়েছে ভালো পরিমাণ ফাইবার। এটি অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক হতে পারে। তবে কচুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি। তাই ডায়াবেটিস থাকলে প্রতিদিন না খেয়ে মাঝে মধ্যে অল্প পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
ওল
আলুর তুলনায় ওলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম। তাই ডায়াবেটিস থাকলেও মাঝেমধ্যে ওল খাওয়া যেতে পারে। তবে শুধু ওল না খেয়ে অন্যান্য সবজি বা শাকের সঙ্গে রান্না করে খাওয়া ভালো। চিংড়ির ঝোলেও ওল দিয়ে খেতে পারেন। তবে এটিও প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় না রাখাই ভালো।
মুলা
ডায়াবেটিসে মুলা খাওয়া নিয়ে অতটা চিন্তার কারণ নেই। শীতের এই সবজি সালাদ হিসেবে কাঁচা কিংবা রান্না করে দুইভাবেই খাওয়া যায়। পরিমাণ ঠিক রেখে খাবারের তালিকায় মুলা রাখা যেতে পারে।
গাজর ও বিট
গাজর ও বিটের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুব বেশি নয়। ফলে ডায়াবেটিস থাকলেও এগুলো খাবারের তালিকায় রাখা যায়। তবে শুধু বিটের তরকারি খাওয়ার বদলে সালাদের সঙ্গে মিশিয়ে বা অন্যান্য সবজির সঙ্গে রান্না করে খাওয়া ভালো।
ডায়াবেটিস থাকলেই মাটির নিচে জন্মানো সবজি মানেই নিষেধ এ ধারণা ঠিক নয়। বরং কোন সবজি কতটা পরিমাণে, কীভাবে এবং অন্য কোন খাবারের সঙ্গে খাওয়া হচ্ছে, সেদিকে নজর দেয়াই বেশি জরুরি। ব্যক্তিভেদে খাদ্যাভ্যাসের প্রয়োজনও ভিন্ন হতে পারে। তাই নিয়মিত খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া ভালো।