সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ঐতিহাসিক পান্ডারখাল বাঁধ এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বাঁধের দুই পাশে অবৈধভাবে গড়ে তোলা স্টোন ক্রাশার এবং ইট, বালু ও পাথরের স্তূপের কারণে বাঁধটি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে হুমকিতে পড়েছে ডেখার হাওরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের বোরো ফসল। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একদল অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি জায়গা দখল করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, ১৯৭৪ সালে নির্মিত প্রায় ৫১ বছরের পুরনো এই বাঁধটির দুই পাশে পাহাড়সম বালু ও পাথরের স্তূপ। কোথাও কোথাও চলছে যান্ত্রিক স্টোন ক্রাশার। ভারী মালামালের চাপে বাঁধের বিভিন্ন অংশে ফাটল ও ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এছাড়া ক্রাশারের বিকট শব্দ এবং উড়ন্ত ধুলাবালুতে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ, শুকিয়ে যাচ্ছে বাঁধের দুপাশের গাছপালা।
স্থানীয়রা জানান, ডেখার হাওরের ফসল রক্ষার জন্য নির্মিত এই বাঁধটি একসময় ছিল অত্যন্ত মনোরম। দুই পাশে সারিবদ্ধ গাছ আর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া পান্ডারখাল পর্যটকদের আকর্ষণ করত। সরকারি উদ্যোগে নির্মিত বসার ছাউনিগুলোতে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাতেন। কিন্তু বর্তমান দখলদারিত্বের কারণে সেই সৌন্দর্য এখন কেবলই স্মৃতি।
বালু-পাথরের স্তূপের কারণে ছাতক ও দোয়ারাবাজার থেকে সুনামগঞ্জে যাতায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে চলাচল করা দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা জানায়, ধুলার কারণে রাস্তা দিয়ে হাঁটা যায় না এবং আগে যেখানে বসে সময় কাটানো যেত, এখন সেখানে দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি। মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হলেও কয়েকদিন পর পরিস্থিতি আবার আগের মতোই হয়ে যায়। এই অসাধু ব্যবসায়ীদের হাত থেকে বাঁধটি রক্ষা করা জরুরি।
পথচারী মো. আমিন জানান, স্তূপ করে রাখা মালামালের কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দোহালিয়া ইউনিয়নের কলেজ শিক্ষার্থী মাসুদ রানা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিনোদনের জায়গাটি এখন বালুর স্তূপে ঢাকা পড়েছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জুয়েল বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই বাঁধটি রক্ষা করতে না পারলে বর্ষা মৌসুমে বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল তলিয়ে যাওয়ার ব্যাপক ঝুঁকি রয়েছে।
এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, পান্ডারখাল বাঁধের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পরিবেশ রক্ষা এবং বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।
হাওরপাড়ের কৃষকদের দাবি, আসন্ন বর্ষার আগেই যেন বাঁধটি দখলমুক্ত করে সংস্কার করা হয়, অন্যথায় ফসল হারিয়ে পথে বসতে হবে হাজারো কৃষককে।