স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর (তৎকালীন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস), কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র (স্বাধীনতা ঘোষণার স্থান), জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলসহ বিভিন্ন স্থান সংরক্ষণে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, ‘ঐতিহাসিকভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে যার যে ভূমিকা সেটা আমরা তুলে ধরতে চাই। সঠিক ও সত্য ইতিহাস মুছে ফেলে শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে পরীক্ষার খাতায় ৯৮ শতাংশ পাস করাতে হবে- জাতি ধ্বংস করার এই পরিকল্পনা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই তাগিদ অনুভব করেই সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় অর্পিত কাজ শুরু করে দিয়েছে।’ সম্প্রতি চট্টগ্রামে জিয়া স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন বলে জানান তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সমাজে ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, বর্ণ, ভিন্ন আদর্শ ও রাজনৈতিক মতাদর্শ-চিন্তার লোক থাকলেও বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য খুঁজে আনতে চাই। গরিব ও মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের মূল লক্ষ্য। শুধু তাই নয়, বর্তমান সরকার মহান মুক্তিযুদ্ধকেও সর্বজনীন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ ইতিহাসে যার যতটুকু অবদান ও মর্যাদা, তাকে ততটুকু সম্মান ও মর্যাদার জায়গায় রেখেই সামনে অগ্রসর হতে চায় সরকার। উদ্দেশ্য প্রত্যেকের অবস্থানগত মর্যাদা ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা; যেন কাউকে খাটো না হতে হয়। যদিও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ইতিহাসকে ম্লান করে দিয়ে এক ব্যক্তি ও পারিবারিক ইতিহাস তৈরি করার চেষ্টা করেছে। মুক্তিযুদ্ধকে দলীয়করণ করেছিল তারা। অথচ এটাকে সর্বজনীন করা উচিত ছিল। এমনকি বিগত ১৫ বছর দেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার অধিকার থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। আমি যেমন চট্টগ্রাম গেলাম; যেখানে জিয়াউর রহমানের স্মৃতি জাদুঘর রয়েছে। জিয়াউর রহমানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দিকটা প্রথম ভেসে উঠল। সেটা হলো, তার বিদ্রোহ করা ও স্বাধীনতার ঘোষণা। কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র। এগুলো সংরক্ষণের দাবি রাখে। জিয়াউর রহমানের সমাধি প্রাঙ্গণে একটি কার্যকর লাইব্রেরি করার প্রস্তুতি রয়েছে। কেননা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দেশের উন্নয়ন, নানামুখী নবজাগরণ সৃষ্টিতে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। তার জীবন অবসান হলো চট্টগ্রামে সার্কিট হাউসে। এখন সেটা স্মৃতি জাদুঘর। এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। এরই মধ্যে চট্টগ্রামে জাদুঘরের কাজ চলছে। পাশে একটি শিশুপার্ক করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এটি আগে সেনাবাহিনীর দখলে ছিল। এখন সিটি করপোরেশনের অধীনে রেখে কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে ‘জিয়া স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন করেন। পরে আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমানের সব অবদান মুছে ফেলতে চেষ্টা করেছে। অথচ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ সন্ধিক্ষণে শেখ মুজিবের অবস্থান; জিয়াউর রহমানের অবস্থান কী? দেশের মানুষ যখন দিশাহারা তখন দেশ ও জাতি রক্ষায় নেতৃত্ব কাঁধে তুলে নেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান।’
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যে ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সেটি সরিয়ে জিয়া স্মৃতি জাদুঘরে নিয়ে আসা হয়েছে। কারণ যেখান থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন সেই স্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব আছে। এ ছাড়া আগামী দিনের তরুণ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। এই জাদুঘর এবং সংলগ্ন এলাকাটিকে ল্যান্ডস্কেপ করে সুন্দরভাবে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। কাউকে ছোট করে নয়, বরং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে।