• মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩১ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কাটছে না মোদির ‘তেলাপোকা’ ভয়! টানা চার দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া অধিদপ্তর আসি আসি বলে শেখ হাসিনার আর আসা হবে না: হাসনাত আব্দুল্লাহ লাইসেন্স ফিরে পেলো আদ্-দ্বীন হাসপাতাল সিলেটে ফুটবল ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক অপপ্রচার চলছে: এমপি নাছির চৌধুরী কক্ষে ডেকে নিয়ে শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, আটক মাদ্রাসা শিক্ষক সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ৩ ডেঙ্গু রোগী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চার্জ দাখিল এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ ১০ আগস্ট হাসপাতালে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রীর মৃত্যু সিলেট নগরীর যেসব বাসা-বাড়ির মালিককে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিল সিসিক সিলেটে চুরি-ছিনতাই হওয়া ৪৪ মোবাইল ফোন উদ্ধার করল পুলিশ শিক্ষিকা বিউটি পালের সাথে সংহতি, গানের ভিডিওতে সয়লাব ফেসবুক ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ৪৫৮ ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা ৬৩ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার: বাণিজ্যমন্ত্রী কঙ্গোয় ‘দাবানলের’ মতো ছড়াচ্ছে ইবোলা ভাইরাস, মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল ফয়জুল করীম ঢুকলেন, অনুসারীরা রইলেন বাইরে; ফটকেই আদায় করলেন নামাজ বিনামূল্যে ফেসবুকে মিলবে ভেরিফায়েড ব্যাজ, জেনে নিন পাওয়ার সহজ উপায় ইসলামী ব্যাংকের ৮০ হাজার কোটি টাকার ঋণ কেলেঙ্কারিতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জড়িত

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও তারেকের সামনে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ

Reporter Name / ১৯৮ Time View
Update : রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

247

অনলাইন রিপোর্টার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের নেতৃত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়া তারেক রহমানের জন্য একাধিক জটিল ও বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া অনিবার্য। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি, প্রশাসনিক কাঠামো, সামাজিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সবই সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

বর্তমান সরকারের মুখ্য চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করা। গত ১৮ মাসে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিক্ষোভ, মোব সহিংসতা, দখল ও অবরোধের ঘটনা বেড়েছে। প্রশাসনিক ভবন ঘেরাও, রাস্তা অবরোধ ও সহিংসতার মতো ঘটনা জননিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা ক্ষুণ্ণ করেছে। নতুন সরকার প্রথমেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা ও জনগণের আস্থা পুনর্গঠন করতে হবে।

অর্থনীতির স্থবিরতা দূর করা আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, গত দেড় বছরে নানা অনিশ্চয়তা, মামলা ও ব্যাংক হিসাব জব্দের কারণে বিনিয়োগ কমেছে। যন্ত্রপাতি আমদানি ২০-২৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ৩.৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে, আর মূল্যস্ফীতি ৮.৫ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে। বিনিয়োগ, উৎপাদন ও রফতানিতে গতি ফেরানো সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

প্রশাসনিক শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠাও বড় পরীক্ষা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রশাসনে রাজনৈতিক বিভাজন, বাধ্যতামূলক অবসর, পদোন্নতি বিতর্ক ও পদায়ন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। সচিবালয়সহ বিভিন্ন দফতরে কর্মবিরতি ও অবরোধের ঘটনা প্রশাসনের কার্যকারিতা ব্যাহত করেছে। দক্ষ ও নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ে তোলা নতুন সরকারের জন্য অপরিহার্য।

ভারতসহ বৈশ্বিক কূটনীতি পুনর্গঠনও চ্যালেঞ্জ। প্রতিবেশী ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। পূর্ববর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখা, পারস্পরিক শুল্ক সমন্বয় এবং চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি গঠন গুরুত্বপূর্ণ।

শ্রমবাজার পুনরুদ্ধারও জরুরি। বিভিন্ন দেশে ভিসা জটিলতা ও বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রফতানি কমেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রবাসী আয় স্থিতিশীল রাখা নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ।

কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক অস্থিরতা হ্রাস করা অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারখানা বন্ধ ও বিনিয়োগ হ্রাসের ফলে বেকারত্ব বেড়েছে। শিল্প ও সেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান না থাকলে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যস্ফীতি মোকাবিলাও চ্যালেঞ্জ। নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। কৃত্রিম সংকট, মজুত ও বাজার অস্থিরতা পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি ৩-৪ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য স্থির করেছে। বাজার শৃঙ্খলা ফেরানো জরুরি।

ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল। এই দল ও অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের নীতি ও বক্তব্য নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের উদ্বেগ রয়েছে। নতুন সরকারকে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রেখে সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করতে হবে।

জননিরাপত্তা ও সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ। দখল ও হামলার ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সু-শাসন, আইনশৃঙ্খলা ও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি ছাড়া টেকসই সরকার পরিচালনা সম্ভব নয়। পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী পরিচালক ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, দেশের সুশাসন ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এই তিনটি দিক অপরিহার্য। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান জানান, তৈরি পোশাক ও খনিজ খাত প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফর্ম করছে না, বিদ্যুৎ উৎপাদনও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো হয়েছে, বিদ্যুৎ আমদানিও ১৩ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররফ হোসাইন ভূঁইয়া বলেন, দলবাজিমুক্ত দক্ষ প্রশাসন ছাড়া কার্যকর সরকার পরিচালনা কঠিন। সব মিলিয়ে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েও তারেক রহমানের জন্য নতুন সরকারের পথ কঠিন—নীতির সমন্বয়, দক্ষতা ও জনগণের আস্থার ওপর নির্ভর করে সরকারের টেকসইতা স্থির হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd