প্রথম ম্যাচের দুর্দান্ত ফর্ম দ্বিতীয় ম্যাচেও ধরে রাখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফরাসি এই ফরোয়ার্ডের জোড়া গোলের দিনে জালের দেখা পেয়েছেন উসমান দেম্বেলেও। তাদের নৈপুণ্যে ইরাককে সহজেই হারিয়েছে ফ্রান্স। ফিলাডেলফিয়ায় বজ্রবৃষ্টির কারণে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে চলা ম্যাচে ইরাকিদের ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ‘আই’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ফ্রান্সের জার্সিতে এটি ছিল এমবাপ্পের শততম ম্যাচ। নিজের মাইলফলকের ম্যাচটিকে জোড়া গোল করে দারুণভাবে রাঙালেন সময়ের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৪-এ। ম্যাচে জোড়া অ্যাসিস্ট করে উজ্জ্বল ছিলেন মাইকেল অলিস।
এছাড়া উসমান দেম্বেলে নিজে এক গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন আরও এক গোল। ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট হিসেবে মাঠে নেমে ইরাককে কোনো সুযোগই দেয়নি ফ্রান্স। পুরো ম্যাচে ফরাসিদের ১৯টি শটের বিপরীতে ইরাক মাত্র ৪টি শট নিতে পেরেছে, যার দুটিই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট। ফ্রান্সের ১৯টি শটের মধ্যে ৫টি ছিল অন-টার্গেট।
ম্যাচের ১৪ মিনিটেই একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে এগিয়ে যান এমবাপ্পে। ডান প্রান্তে তিনি বল বাড়িয়ে দেন মাইকেল অলিসের উদ্দেশে। বলটি প্রথমে এক ডিফেন্ডারের পায়ে লাগলেও পরক্ষণেই তা নিয়ন্ত্রণ নেন অলিস। কাট-ব্যাক করে তিনি ফিরতি পাস দেন এমবাপ্পেকে। আর বাম পায়ের জোরালো শটে ইরাকের জাল কাঁপাতে ভুল করেননি ফরাসি অধিনায়ক। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের ১৫তম গোল পূর্ণ করে ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোনালদোর পাশে বসলেন এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের গোলের কিছু পরেই ফিলাডেলফিয়ায় শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। তবে বজ্রপাত না থাকায় রেফারি খেলা চালিয়ে যান। বৃষ্টির কারণে ফ্রান্সের খেলার স্বাভাবিক ছন্দে কিছুটা ছন্দপতন ঘটায় প্রথমার্ধে তারা আর গোল ব্যবধান বাড়াতে পারেনি।
১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়োর্ধের খেলা শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল দুই দল। কিন্তু তখনই শুরু হয় তীব্র বজ্রবৃষ্টি। ফলে নিরাপত্তাজনিত প্রটোকল অনুযায়ী ম্যাচ অফিসিয়ালরা খেলা স্থগিত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ ২ ঘণ্টা ১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়।
অবশেষে খেলা পুনরায় শুরু হলে দ্বিতীয় গোলটি পেতে ফ্রান্সকে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে ইরাকের রক্ষণভাগের মারাত্মক ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ডি-বক্সের ভেতর নিজেদের গোলরক্ষক আহমেদ বাসিলকে লক্ষ্য করে ব্যাক-পাস দিয়েছিলেন ডিফেন্ডার জায়েদ তাহসিন। কিন্তু গোলরক্ষক বলটি নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হলে সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যান উসমান দেম্বেলে।
বল পেয়ে ফাঁকায় থাকা এমবাপ্পের উদ্দেশে পাস দেন দেম্বেলে। আলতো ছোঁয়ায় জালে পাঠিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে ১৬তম গোল করেন এমবাপ্পে। এতে স্পর্শ করেন মিরোস্লাভ ক্লোসার ১৬ গোলের রেকর্ড। তার সামনে এখন শুধু লিওনেল মেসি (১৮)।
এরপর ৬৬ মিনিটে দেম্বেলে নিজেও পান জালের দেখা। মাইকেল অলিসের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন পিএসজি তারকা। ম্যাচের বাকি সময়ে আর গোল না পেলেও এই জয়েই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়েছে ফ্রান্সের।