অভিবাসনবিরোধী অভিযানের বিরুদ্ধে এবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে গত সোমবার চতুর্থ দিনের মতো পুলিশ ও প্রতিবাদকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশকে এ সময় রাবার বুলেট ছুড়তে দেখা গেছে। অন্যদিকে প্রতিবাদকারীদেরও পুলিশকে লক্ষ্য করে নানাবিধ জিনিস ছুড়তে দেখা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবর বলছে, দেশটির বিভিন্ন স্থানে আইসবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও কাস্টমসসংক্রান্ত কেন্দ্রীয় সংস্থা আইস নামে পরিচিত। দেশটিতে ক্ষমতাসীন ট্রাম্প প্রশাসন কট্টর অভিবাসননীতি প্রয়োগ করেছিল। তারই জেরে অশান্ত হয়ে উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন স্থান।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও নিউইয়র্ক, শিকাগো, ডালাস ও স্যান ফ্রান্সিসকো, টেক্সাস ইত্যাদি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। তবে অন্যান্য স্থানে হওয়া বেশির ভাগ বিক্ষোভই ছিল শান্তিপূর্ণ। দেশটির বিভিন্ন অংশে হওয়া বিক্ষোভে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করেছে ও স্লোগান দিয়েছে। অনেকের হাতে নানা ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা গেছে। এ রকমই এক প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘কোনো মানুষই অবৈধ নন।’
সিএনএনের খবর বলছে, সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তা ও সরকারি সম্পদ রক্ষায় প্রায় ৭০০ মেরিন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেসে। এ ছাড়া আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে নিয়োজিত করা হচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, এর আগে আরও ২ হাজার ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে মোতায়েন করা হয়। সব মিলিয়ে শুধু ন্যাশনাল গার্ড সদস্যই মোতায়েন করা হয়েছে চার হাজার।
আইসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক টম হম্যান সিএনএনকে বলেছেন, প্রতিবাদ দমনে মেরিন সদস্য মোতায়েন প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ও লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস বিষয়টির নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ শহরটিতে ‘পরীক্ষামূলক কার্যক্রম’ চালাচ্ছে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে কারা প্রতিবাদ করছে
সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, প্রতিবাদকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অনেক প্রগতিশীল নাগরিকও রয়েছেন, যারা ট্রাম্প প্রশাসনের কট্টর অভিবাসননীতিকে ভালোভাবে দেখছেন না। আবার পেশাদার অনেক দাঙ্গাবাজও এ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক সূত্র বলছে, গত রবিবার রাতে জড়ো হওয়া মানুষের মূল্যায়ন করেছে তারা। দেখা গেছে, বহু মানুষই জড়ো হয়েছেন সাম্প্রতিক অভিবাসননীতির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে। অনেকে আবার ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।
পেশাদার দাঙ্গাবাজ প্রসঙ্গে এক গোয়েন্দা সূত্র জানান, ওই ব্যক্তিরা যেকোনো পন্থায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
মেক্সিকোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রের পাশের দেশ মেক্সিকোতেও মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সীমান্তে অভিবাসনবিরোধী অভিযান অবসানের দাবি জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ধারণ করা এক ভিডিওতে দেখা গেছে, বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর পতাকা উড়াচ্ছেন এবং সেখানে মোর্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কুশপুত্তলিকা পোড়ানো হচ্ছে। মাইগ্রেন্ট অর্গানাইজেশন অ্যাজটলানের অধিকারকর্মী আলেহান্দ্রো মারিনেরো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের কমিউনিটির ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের চড়াও হওয়ার পর আমরা শান্ত থাকতে পারি না।’ সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান