‘পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল রক্ত লাল রক্ত লাল্’। এমনই এক ডিসেম্বরের কুয়াশা মোড়ানো ভোরে উদিত হয়েছিল স্বাধীনতার নতুন সূর্য।
চিরগৌরবের দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকার স্থান পাওয়ার দিন আজ। বাংলাদেশ নামে নতুন একটি স্বাধীন ভূখ-ের আত্মপ্রকাশ ঘটে এদিন। ১৯৭১ সালের এই দিন
দেশের বীর সন্তানরা জীবনবিমুখ হয়ে যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। হাতেগোনা অস্ত্র, অনভিজ্ঞ প্রশিক্ষণ-কিছুই তাদের থামাতে পারেনি। যার কাছে যা ছিল তাতেই তারা লড়েছিল, মাথা উচু রেখে, প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করেছিল মুক্তি।
দীর্ঘ নয় মাস পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন ৩০ লাখ মানুষ। ২ লাখ মা-বোনেরসম্ভ্রম হারিয়ে গেছে, আর বিপুল ধনসম্পদ ধ্বংস হয়েছে। তবু সেই আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয় এবং জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে।
১৬ বছর ধরে রাজনৈতিক দখল, পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি, ও ঔপনিবেশিক নীতির ছায়ায় দেশকে বিভাজিত করে নানা ধরনের লুটপাট চালানো হয়েছে। তবে জনগণ এসব সহ্য করেনি। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে নতুন করে শুরু হয় সংগ্রাম। এবং ৭১-এররক্তক্ষয়ী সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশের জন্য আনয়ন করে নতুন একটি বাংলাদেশের সূচনা।
১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যৌথবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
এর মধ্য দিয়ে পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ নামে নতুন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। ১৬ ডিসেম্বর বীর বাঙালির বিজয় দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়। প্রতি বছর বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বিজয় দিবস উদযাপন করেন।