গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তোয়াকুল ইউনিয়নে সরকারি প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন ও তার ভাই ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। মিসবাহ উদ্দিনের ভাই আলাউদ্দিন তোয়াকুলের ইউপি সদস্য হওয়ায় এখনো এলাকার উন্নয়নের জন্য সরকার থেকে অনেক বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিখা প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় লাকী উত্তর পাড়া মক্তবের সামনের ব্রিজ হইতে মসজিদের ব্রীজ পর্যন্ত রাস্তা পুনঃনির্মাণে তিন লক্ষ টাকার কাজে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সেই বরাদ্দের কাজ ঠিক মতো না করায় স্থানীয় লাকী গ্রামের যুবক রুবেল প্রতিবাদ করায় মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই আলাউদ্দিন দলবলসহ তোয়াকুল বাজারে ওই যুবকের উপর হামলা চালায়। হামলার ভিডিওটি সংগ্রহিত রয়েছে। এ ঘটনায় ওই যুবক বাদি হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু পুলিশ এখনো মিসবাহ উদ্দিন ও তার ভাই আলাউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। ছাত্রলীগ নেতা মিসবাহর কথায় মত যারা ছাত্রলীগ করেনি তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও হেনস্থার মাধ্যমে জেল খাটানো হয়েছে। ফসলি জমি গবাদিপশু বিক্রি করে মিথ্যা মামলা চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের অভিভাবকরা এমনটা জানিয়েছেন। এতদিন তারা ভয়ে মুখ খুলতে পারেননি। তারা জানান,দেশের পট পরিবর্তন হলেও মিসবাহ ও তার ভাই বর্তমানে ও দাপট খাটিয়ে সমাজের নিরিহ মানুষদের নির্যাতন করে যাচ্ছে। কয়েকজন যুবক ও তাদের অভিভাবকরা এই অভিযোগ করেন। যাদের ভিডিও বক্তব্য সংগ্রহীত। এছাড়া ২০২৪ সালে সাবেক মন্ত্রী ইমরান আহমদের দাপট খাটিয়ে তোয়াকুল ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে চাকুরী পায়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মিসবাহ উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাই তিন তিনবারের মেম্বার। এই কাজের সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নেই। পূর্ব শত্রুতার জেরে আমাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীসহ অপপ্রচার করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে তোয়াকুল ইউপি সদস্য আলাউদ্দিন বলেন, পূর্বের একটি মারামারির ঘটনায় আমাকে চক্রান্ত করে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে পিআইও কাজ পরিদর্শন করে বিল প্রদান করেন। এখানে অনিয়ম করার সুযোগ নাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাঁধন কান্তি সরকার বলেন, এই প্রকল্পে কোনো অনিয়ম হয়নি। মেম্বার সাহেব সঠিকভাবে কাজ সম্পন্ন করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই দিদারুল আলম জানান, মামলাটি তদন্তনাধীন। কয়েকজন আসামী জামিনে আছেন। বাকী আসামীদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।