২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর স্পেনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত হাতাহাতি ও সংঘাতের জের ধরে মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসসহ আর্জেন্টিনার একাধিক ফুটবলারকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক জরিমানা করেছে ফিফা।
শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তির কথা জানায় বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
খেলোয়াড়দের শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকেও (এএফএ) সাজার আওতায় আনা হয়েছে। ঘরের মাঠে নিজেদের পরবর্তী দুটি ম্যাচে স্টেডিয়ামে কেবল ৫০ শতাংশ দর্শক নিয়ে খেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলটিকে। তবে এর মধ্যে একটি ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা হয়েছে।
বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড় পারেদেসকে ১০টি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে ৯০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। তখন প্রতিপক্ষের গাভিকে মাটিতে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এরিক গার্সিয়ার গলা চেপে ধরেন পারেদেস। ওই ঘটনার জেরে দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে হাতাহাতি তীব্র আকার ধারণ করে।
আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মলিনাকেও সাতটি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পারেদেসের মতো তাকেও ৯০ হাজার ডলার জরিমানা দিতে হবে।
এছাড়া, আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার থিয়াগো আলমাদা ও স্পেনের মিডফিল্ডার গাভি— উভয়কেই একটি করে ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি তাদেরকে ৩০ হাজার ডলার করে জরিমানা করা হয়েছে।
সাজা পেয়েছেন আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তো আয়ালাও। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে ৩০ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে তাকে।
ফিফার শৃঙ্খলা ভাঙায় মোট ৩ লাখ ২১ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে এএফএকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ২-১ গোলে জয়ের পর আর্জেন্টিনার বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় একটি ব্যানার হাতে নিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানে লেখা ছিল ‘লাস মালভিনাস সন আর্জেন্টিনাস’, যার অর্থ ‘ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।
এসব নিষেধাজ্ঞার শাস্তি কার্যকর হবে কেবল আন্তর্জাতিক ম্যাচে। তবে ফিফার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সবাই।